সিলেটে বিপৎসীমার ওপরে থাকা কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি কমছে। গত ২ জুলাই থেকে ফেঞ্চুগঞ্জে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কখনো বাড়ছিল, আবার অপরিবর্তিত ছিল। গত এক সপ্তাহে সুরমা ও কুশিয়ারার সব কটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচে নামে। তবে ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে অপরিবর্তিত ছিল। শুক্রবার সকাল থেকে সেখানে পানি কমছে।

দৈনিক পানির স্তর–সম্পর্কিত তথ্যের সূত্রে এ কথা জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুজ্জামান সরকার।

সুরমা ও কুশিয়ারা সিলেট অঞ্চলের দুই প্রধান নদী। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা দিয়ে সুরমা প্রবাহিত হয়েছে। কুশিয়ারা সিলেট জেলার পাঁচটি উপজেলা হয়ে মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের তিনটি উপজেলার একাংশ দিয়ে প্রবহমান। বর্ষায় সীমান্ত নদী দিয়ে পাহাড়ি ঢল নামলে সুরমা-কুশিয়ারার পানি বাড়ে। সিলেট অঞ্চলে গত ৩০ জুন থেকে পাহাড়ি ঢল নামা শুরু হয়। দুই নদীর পানি ওই সময় থেকে বাড়ছিল।

পাউবো জানায়, সিলেট শহর ও কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি পরিমাপ করা হয়। পানি বাড়ার প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সিলেট শহর পয়েন্ট থেকে পানি বিপৎসীমা থেকে নামে। প্রায় ১৫ দিন পর ২৫ জুলাই কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমার পানি বিপৎসীমা থেকে নেমে যায়। কিন্তু কুশিয়ারার চারটি পয়েন্টের মধ্যে শুধু ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

পাউবোর দৈনিক পানির স্তর-সম্পর্কিত তথ্যে দেখা গেছে, কুশিয়ারা নদীর চারটি পয়েন্টের মধ্যে ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি সবার আগে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ৩০ জুন থেকে পানি বেড়ে ২ জুলাই সকাল নয়টায় ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। একই সময় কুশিয়ারার উৎসমুখ জকিগঞ্জের অমলসিদসহ বিয়ানীবাজারের শেওলা ও মৌলভীবাজারের শেরপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানির বিপৎসীমা ৯ দশমিক ৪৫ মিটার। ১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় ৯ দশমিক ৪৩ মিটার থেকে বেড়ে ২ জুলাই সকাল ৬টায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে। এরপর ধাপে ধাপে পানি বাড়ছিল। কুশিয়ারার অন্যান্য পয়েন্টে ও সুরমাসহ সীমান্ত নদীর পানি কমলেও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি অপরিবর্তিত ছিল। শুক্রবার সকাল ও দুপুরে তিনটি পরিমাপে পানি কমেছে মাত্র দশমিক ১ সেন্টিমিটার। দুপুর ১২টায় সেখানে ৯ দশমিক ৫৭ মিটার দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। গত বুধবার সন্ধ্যায় সেখানে ৯ দশমিক ৬৮ মিটার দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ৯ দশমিক ৬৩ মিটার থেকে নেমে দুপুর ১২টায় পানির স্তর ছিল ৯ দশমিক ৬০ মিটার।

ধীরগতিতে হলেও পানি কমার ধারাবাহিকতায় আশাবাদী হচ্ছেন পাউবোর নদ-নদী পর্যবেক্ষকেরা। তাঁরা বলছেন, ভারী বৃষ্টিপাত না হলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে যাবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0