বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্র জানায়, হাটশ হরিপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান এম সম্পা মাহমুদ। তিনি জেলা যুব মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। এই ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই জেলা-উপজেলাসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা এম সম্পা মাহমুদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। গত ২১ ডিসেম্বর রাতে নৌকার এক পথসভায় হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিলন মণ্ডল বলেছিলেন, ‘হরিপুর ইউনিয়নবাসীকে বলতে চাই, হরিপুরবাসী আপনারা শান্তিপ্রিয় মানুষ। আপনারা-আমরা শান্তিতে থাকব। কোনো বানোয়াট লোকের কথামতো আমরা কারও কাছে জিম্মি হব না। অতএব ভোট নৌকা বাদে কোথাও যাবে না, হরিপুরে বাস করতে হলে ভোট নৌকাতেই দিতে হবে।’

এই নেতা হঠাৎ আজ দুপুরে দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী (সম্প্রতি বহিষ্কৃত) আবদুর রশিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। তাঁর সঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফ ফারাজীসহ কয়েকটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারাও ছিলেন।

আজ সোমবার প্রচারণার শেষ দিনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুর রশিদের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন নৌকার প্রার্থী।

বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুর রশিদ দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ১ নম্বর হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আনারস মার্কার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে একাত্মতা প্রকাশ করে সংহতি জানালেন। এখন চলছে বিশাল নির্বাচনী প্রচারণা।

বিকেলে ইউনিয়নের শালদহ গ্রামের নিজ বাড়িতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এম সম্পা মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা কয়েক দিন ধরেই যড়যন্ত্র করছেন। আজ সেটা প্রকাশ্যে এল। তাঁরা বেইমান। শেখ হাসিনার প্রতীকের সঙ্গে বেইমানি করলেন। এটা লজ্জার। তবে আমার শেষ রক্ত থাকা পর্যন্ত মাঠে আছি। আমি যদি এক ভোটও পাই, তবুও মাঠে থাকব। আর যাঁরা বেইমানি করছেন, তাঁদের বিচার জননেত্রী শেখ হাসিনা করবেন।’ সম্পা মাহমুদ আরও বলেন, ‘আমার কাছে সুবিধা চেয়ে না পেয়ে তাঁরা দলের প্রতীক ছেড়ে বহিষ্কৃত প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচন করছেন। তাঁদের বিচার হওয়া দরকার।’

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মিলন মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নৌকার ভোট করে বেড়াচ্ছি। দুপুরে প্রচারণা চালানোর সময় আনারস প্রতীকের বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। সেখানে চা খাওয়ার কথা বললে বসি। এর বেশি কিছু না। তবে নৌকার প্রার্থীকেই  খুঁজে পাচ্ছি না। তাঁর করা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।’

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। নৌকার বাইরে দলের নেতা-কর্মীদের অন্য কারও ভোটের প্রচারণা করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ করে থাকে, প্রমাণ সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন