default-image

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণ মামলার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। সাক্ষ্য গ্রহণের মাত্র তিন কার্যদিবসে এ রায় ঘোষণা করা হলো। ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণার দিক থেকে দেশের ইতিহাসে এটিই দ্রুততম বলে জানিয়েছেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল হালিম।

মঙ্গলবার বেলা ১টা ১২ মিনিটে কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় একমাত্র আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম আবদুল কাদের (৪৫)। তিনি ওই মাদ্রাসার পরিচালক ও উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্র জানায়, গত ৪ অক্টোবর উপজেলায় একটি মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আবদুল কাদের ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে পরদিন মিরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে আবদুল কাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তিনি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

বিজ্ঞাপন

মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান ৭ দিনে তদন্ত শেষে ১৩ অক্টোবর আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটি বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেওয়া হয়। ১২ নভেম্বর আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ১৩ ও ১৪ নভেম্বর সরকারি ছুটি থাকায় আদালত বন্ধ ছিল। ১৫ নভেম্বর বাদীসহ ১৩ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে আদালতে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপিত হয়। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত দুপুরের পর রায় ঘোষণার সময় নির্ধারণ করেন। এরপর বেলা ১টা ১২ মিনিটে আদালতের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন।
পিপি আবদুল হালিম বলেন, দেশে মাত্র তিন কার্যদিবসে রায় হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। দ্রুত এ রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি ন্যায়বিচার পেয়েছে।
এই কৌঁসুলি জানান, রায় ঘোষণার সময় আদালত তাঁর মন্তব্যে বলেছেন, ‘এখানে রক্ষকই ভক্ষক হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, ঘটনা সত্য ও আসামি অপরাধী। তাই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হলো। বাংলাদেশে এত দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় হয় নাই। সকলের সহযোগিতায় এটা সম্ভব হয়েছে।’

রায় ঘোষণার পর দ্রুত আসামি আবদুল কাদেরকে পুলিশ জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। প্রিজন ভ্যানে ওঠানোর সময় সাংবাদিকেরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, এ ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত কি না। তবে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তাঁর চোখ ছলছল করছিল।

মন্তব্য পড়ুন 0