default-image

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় সমাজসেবা কার্যালয়ের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগে পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিকাশ কুমার সরকার নামের ওই কর্মী একই উপজেলার ইউনিয়ন সমাজকর্মী হিসেবে কর্মরত। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে খোকসা পৌরসভা চত্বরে মারধরের ঘটনা ঘটে।

বিকাশ কুমার সরকার খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় বাড়ি চলে যান। পরে তিনি কাউন্সিলর হাসেম আলীকে আসামি করে খোকসা থানায় মামলা করেন। হাসেম খোকসা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর।

পুলিশ, সমাজসেবা কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সারা দেশের মতো খোকসায় সমাজসেবা কার্যালয়ের সব ভাতাভোগীর টাকা সরাসরি তাঁদের কাছে পৌঁছে দিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে গতকাল পৌরসভায় নগদ হিসাব খোলার জন্য ভাতাভোগীরা জড়ো হন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং লাইন সোজা করতে ইউনিয়ন সমাজকর্মী বিকাশ কুমার সরকার কাজ করছিলেন। এ সময় পৌরসভা ভবনের সিঁড়ি থেকে একজন নারী ভাতাভোগী মেঝেতে পড়ে যান। কাউন্সিলর হাসেম আলী সমাজকর্মীকে দোষারোপ করে প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সমাজকর্মী বিকাশ কুমার সরকার বলেন, ‘নগদ হিসাব খোলার জন্য ভাতাভোগীরা পৌরসভায় ভিড় জমান। লাইন সোজা করছিলাম। এ সময় সিঁড়ি থেকে একজন নারী মেঝেতে পড়ে গেলে কাউন্সিলর মিথ্যা অভিযোগ করে চেয়ার দিয়ে মাথায় আঘাত করেন।’

খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সোহেল বলেন, চেয়ারের আঘাতে বিকাশ কুমার সরকারের মাথার এক জায়গায় ফোলা দেখা গেছে। সন্ধ্যায় ব্যবস্থাপত্র দিয়ে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তাঁর আঘাত গুরুতর নয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাউন্সিলর হাসেম আলীর মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, থানায় মামলা হয়েছে। কাউন্সিলর একমাত্র আসামি। পুলিশ তাঁকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন