default-image

কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানা হেফাজতে নাজমুস হাসিব (২২) নামের এক তরুণকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশকে মারধরের মামলায় আসামি দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালত তাঁকে জামিন দিলে দুপুরেই তাঁকে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

কুমারখালী থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, এসআই পীযূষ কর্মকার বাদী হয়ে পুলিশকে আহত করার ঘটনায় বুধবার দুপুরে থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় ৪০ জনের নামসহ অজ্ঞাত ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার ৯ নম্বর আসামি হলেন নাজমুস। তিনি কুমারখালী উপজেলার শালঘরমধুয়া গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার ক্যামেরাপারসন।

কুমারখালী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমুস হাসিব অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তাঁকে বাড়ির সামনে থেকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। সে সময় সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁকে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়। এর সঙ্গে আরও আটজনকে আটক করা হয়। থানায় নেওয়ার পর থানার ভেতর তিন-চারজন পুলিশ সদস্য তাঁকে মাটিতে ফেলে পাড়া দেন। এরপর ৯ জনকে হাজতে আটকে রাখা হয়।

কুমারখালী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমুস হাসিব অভিযোগ করেন, সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁকে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়। থানায় নেওয়ার পর থানার ভেতর তিন-চারজন পুলিশ সদস্য তাঁকে মাটিতে ফেলে পাড়া দেন।

নাজমুস হাসিব আরও অভিযোগ করেন, দুপুরের দিকে পুলিশ কেবল তাঁকে আলাদা আরেকটি কক্ষে নিয়ে যায়। কক্ষটি এসআই বিলকিচের। ওই কক্ষে এসআই হাসানুর মারামারির ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করতে থাকেন। একপর্যায়ে এক পুলিশ সদস্য হলুদ গামছা দিয়ে তাঁর চোখ বেঁধে ফেলেন। প্রশ্নের ফাঁকে ফাঁকে শক্ত কিছু দিয়ে নাজমুসের পায়ে সজোরে আঘাত করতে থাকেন।

রাতে থানায় রাখার পর আটক ১০ জনকে আজ সকালে আদালতে চালান দেয় পুলিশ। আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন পান তাঁরা। জামিনের পর নাজমুসকে আদালত থেকে সরাসরি কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আব্দুল আল রাজিন বলেন, নাজমুসের পায়ে আঘাতের চিহ্ন আছে। তাঁকে এক্স-রে করাতে বলা হয়েছে। ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তাঁকে।

জানতে চাইলে কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিব হাসান প্রথম আলোকে বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন। এসআই হাসানুরও বুধবার সকাল আটটা থেকে থানায় ছিলেন না। তিনিও বিকেলে থানায় যান।

নাজমুসের পায়ে আঘাতের চিহ্ন আছে। তাঁকে এক্স-রে করাতে বলা হয়েছে। ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তাঁকে।
আব্দুল আল রাজিন, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক

এটিএন বাংলার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি তুহিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, নাজমুসকে থানায় নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে প্রচলিত আইনে বিচার হবে। পুলিশি হেফাজতে চোখে বেঁধে থানায় নির্যাতন করার কোনো অধিকার পুলিশকে এই রাষ্ট্র দেয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার কুমারখালী শালঘর মধুয়া গ্রামে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশের এএসআইসহ তিনজন আহত হন। রাশেদুল হক (৩৫) নামে এক ব্যক্তি হাতে গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পর উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগানের ১৫টি ফাঁকা গুলি করে। এ সময় অন্তত ১০ জনকে আটক করা হয়।

এদিকে থানা হেফাজতে নির্যাতনের প্রতিবাদে গণমাধ্যমকর্মীরা বুধবার বিকেল থেকেই থানা চত্বরে অবস্থান নেন। বৃহস্পতিবার সকালে কুমারখালীতে তাঁরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন। এ সময় সেখানে অর্ধশতাধিক গণমাধ্যমকর্মী অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, থানা হাজতে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের তদন্ত সাপেক্ষে প্রচলিত আইনে শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন