বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী। এই পরাজয়ের বিষয়ে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, দল যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন আগাছার পরিমাণ বেশি থাকে। অনুপ্রবেশকারীরা এগিয়ে গেছে। ত্যাগী কর্মীরা পিছিয়ে পড়েছেন। এ কারণেই দলের ক্ষতি হচ্ছে। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা হারছেন। এগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটা না করা হলে সামনে জাতীয় নির্বাচনে কুষ্টিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে।

আসগর আলী বলেন, ‘ক্ষমতায় যখন আসছি, তখন আমরা গা ভাসিয়ে দিয়েছি। পেছনে তাকাচ্ছি না। এখন হুঁশ হওয়া উচিত। এখনই শুধরাতে না পারলে সামনে মহাবিপর্যয় হবে। পরিণতি আরও খারাপ হবে। যাঁরা দলের মধ্যে থেকে দলের ক্ষতি করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ স্বতন্ত্র প্রার্থীর কেন এত উত্থান, এ প্রশ্ন নিজেই তুলে আসগর আলী বলেন, ‘এমনও দেখা গেছে, দলের শীর্ষ নেতার বাড়ির কেন্দ্রে ২ হাজার ৬০০ ভোটের মধ্যে মাত্র ৭৩ ভোট পাচ্ছে নৌকা। বিদ্রোহী প্রার্থীদের গলায় ফুলের মালা দেওয়া হয়েছে। এটা ঠিক, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে।’

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বলেন, সদরে প্রার্থী বাছাই সঠিকভাবে হয়নি। যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন, তাই এলাকার মানুষ যাঁকে বেশি পছন্দ করেছেন, তাঁকেই নির্বাচিত করেছেন। এটা অবশ্য গণতন্ত্রের বিজয়।

সদরের একটি ইউপির একটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী একটি ভোটও পাননি। এ বিষয়ে আসগর আলী বলেন, ‘এটা হতেই পারে না। যেটা হয়েছে সেটা হলো, ক্ষোভ। যাকে দিয়ে যে কাজটি হওয়া উচিত, সেই জায়গাটাতে আমরা ফেল করছি। আমরা সঠিক জায়গায় সঠিক কাজ করতে পারিনি। সরকার উন্নয়ন করেছে। কিন্তু দল কী করেছে? দলের লোকজন জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। এই হিসাবটা করার সময় এসে গেছে। জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ যৌথভাবে কাজ করতে হবে।’
আসগর আলী আরও বলেন, ‘যাকে যার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, হয়তো সেখানে কোনো গলদ আছে। এই গলদ কাটিয়ে উঠতে হবে। তা না হলে অন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।’

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হকের কাছেও বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সদরে প্রার্থী বাছাই সঠিকভাবে হয়নি। অনেক প্রার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে এলাকার মানুষ অপছন্দ করেছে। আর প্রার্থীদের ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা ছিল। যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন, তাই এলাকার মানুষ যাঁকে বেশি পছন্দ করেছেন, তাঁকেই নির্বাচিত করেছেন। এটা অবশ্য গণতন্ত্রের বিজয়।

সদরের বটতৈল ইউপিতে মাত্র ১১৪ ভোট পেয়েছেন নৌকার প্রার্থী এম এ মোমিন মণ্ডল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনের প্রচারণা চালানোর সময় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে ওই নেতাকে বলতে শোনা যায়, ওপরের এক নেতার নির্দেশে নৌকার পরিবর্তে বিদ্রোহী প্রার্থীকে জয়ী করতে হবে। এমন গোপন বৈঠক হয়েছে। এই কথা জানার পর স্থানীয় সব নেতা বিভ্রান্তিতে পড়েন। তাই তিনি (মোমিন) ভোটের দুই দিন আগে ভোটের মাঠ ছেড়ে দেন। এ কারণে তিনি হেরেছেন। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কে সেই নেতা যার নির্দেশে নৌকার পরিবর্তে বিদ্রোহী প্রার্থীকে জেতানোর নির্দেশ দিয়েছিল? সেই নেতার নাম জানতে চাই।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন