default-image

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে উত্ত্যক্তের প্রতিকার চাইতে গিয়ে উল্টো হামলার শিকার হয়ে এক কিশোরী নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ওই হামলায় নিহত কিশোরীর বাবা, মা ও বোন আহত হয়েছেন। তাঁরা এখন গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত সোমবার উপজেলার শাহপুর চেঙ্গাহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কিশোরীর নাম সুরাইয়া আক্তার (১৪)। সে উপজেলার শাহপুর চেঙ্গাহাটি গ্রামের জহিরুল ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় সুরাইয়ার মা ফেরদৌসা আক্তার আজ বৃহস্পতিবার বাজিতপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় একই গ্রামের রমজান মিয়া (৬৫) ও তাঁর চার ছেলে মাসুক মিয়া (৩২), আশক মিয়া (২৫), কাউসার মিয়া (২২), তরিকুল মিয়াসহ (১৯) ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ আজ রমজানের স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে। স্বপ্না হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি।

এজাহারে বলা হয়, বছরখানেক আগে সুরাইয়াকে প্রেমের প্রস্তাব দেন রমজানের ছেলে কাউসার মিয়া। তাতে সাড়া ছিল না সুরাইয়ার। শেষে সুরাইয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েও প্রত্যাখ্যাত হন কাউসার। দুই মাস আগে অন্যত্র বিয়ে করেন কাউসার। বিয়ে করার পর থেকে নানা জায়গায় সুরাইয়ার নামে কুৎসা রটাতে থাকেন তিনি।

মামলার এজাহার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রমজান মিয়া সুরাইয়াদের প্রতিবেশী। বছরখানেক আগে সুরাইয়াকে প্রেমের প্রস্তাব দেন রমজানের ছেলে কাউসার মিয়া। তাতে সাড়া ছিল না সুরাইয়ার। শেষে সুরাইয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েও প্রত্যাখ্যাত হন কাউসার। দুই মাস আগে অন্যত্র বিয়ে করেন কাউসার। বিয়ে করার পর থেকে নানা জায়গায় সুরাইয়ার নামে কুৎসা রটাতে থাকেন তিনি। সুরাইয়ার পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। পরে সোমবার রাত ১০টার দিকে সুরাইয়ার মা–বাবা কাউসারের বাড়িতে যান এবং কুৎসা রটানোর ঘটনার বিচার দাবি করেন। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কাউসারের পরিবারের সদস্যরা সুরাইয়ার মা–বাবার ওপর হামলা করেন। মা–বাবাকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে সুরাইয়া ও তার বোন সুমাইয়াও হামলার শিকার হয়। হামলায় চারজনই রক্তাক্ত জখম হন।

বিজ্ঞাপন

সুরাইয়া, তার বোন এবং মা–বাবাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নেওয়া হয় জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই সুরাইয়া, সুমাইয়া ও জহিরুল ইসলামকে ঢাকায় নেওয়া হয়। মা ফেরদৌসা আক্তারকে ভর্তি করা হয় জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার রাত পৌনে ১২টায় সুরাইয়ার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে ফেরদৌসা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিয়েতে রাজি না হওয়া কাল হয়েছে আমাদের। বিয়ে না দেওয়াটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না কাউসার ও তার পরিবারের লোকজন। যেখানেই যেতাম, সেখানে গিয়ে জানতে পারতাম কাউসার আমার মেয়ের নামে বদনাম রটাচ্ছে। প্রথমে কিছুদিন চুপ ছিলাম। মনে হয়েছিল একসময় সব থেমে যাবে। কিন্তু না, আরও বাড়ছিল। সেই কারণে প্রতিকার চাইতে গিয়েছিলাম।’

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত রমজানের স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করা গেছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নজরুল ইসলাম, বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত)

সুরাইয়ার মৃত্যুর সংবাদের পর থেকে রমজান মিয়ার পরিবারের সব সদস্য বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান নিয়েছেন। মুঠোফোন বন্ধ থাকায় চেষ্টা করেও রমজান কিংবা কাউসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রমজানের কয়েকজন স্বজন বলেন, ‘এজাহারে উল্লেখ করা অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। আসল সত্য হলো, কাউসার ও সুরাইয়ার বিয়ের আলাপ চলমান থাকা অবস্থায় কাউসার অন্য জায়গায় বিয়ে করে ফেলেন। বিষয়টি বরং সুরাইয়ার পরিবার মেনে নিতে পারছিল না। এই নিয়ে দুই পরিবারের কথা-কাটাকাটির মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে যায়।’

বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত রমজানের স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করা গেছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন