কুমিগ্রাম সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী যাত্রাপুর ঘাটে নৌকার অপেক্ষায় যাত্রীরা। শীত ও কুয়াশায় মাঝি নৌকা বের করছে না। আজ মঙ্গলবার সকালে
কুমিগ্রাম সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী যাত্রাপুর ঘাটে নৌকার অপেক্ষায় যাত্রীরা। শীত ও কুয়াশায় মাঝি নৌকা বের করছে না। আজ মঙ্গলবার সকালেপ্রথম আলো

কুড়িগ্রামের তীব্র শীত ও কনকনে বাতাসে দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। গত দুই দিন সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। এক সপ্তাহ ধরে এ অবস্থা চলছে। মাঝে দু-এক দিন হঠাৎ সূর্যের দেখা মিললেও একটু পরই তা মিলিয়ে যায়। সারা দিন ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে চারদিক। এ অবস্থায় ব্যাহত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, আজ মঙ্গলবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কনকনে ঠান্ডায় গরম কাপড়ের অভাবে দুর্ভোগ বেড়েছে ছিন্নমূল, হতদরিদ্র পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধদের। বিশেষ করে জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদ–নদীর ৪২০টি চরের মানুষ তীব্র শীতে ভীষণ কষ্টে পড়েছে।

আজ মঙ্গলবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঠান্ডার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলার কৃষিশ্রমিকেরা। বোরো চাষের ভরা মৌসুম চললেও কনকনে ঠান্ডায় শ্রমিকেরা ঠিকমতো মাঠে কাজ করতে না পারায় ব্যাহত হয়ে পড়েছে বোরো আবাদ। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি জমিতে সেচ দিয়ে রেখেছেন কৃষকেরা। কিন্তু তীব্র শীতের কারণে তাঁরা ধানের চারা রোপণ (রোয়া গাড়া) করতে পারছেন না। ওই এলাকার কৃষক হাতেম আলী বলেন, ‘যে ঠান্ডা এমনি থাকা যায় না, জমিত নামি কেমন করি? রোয়া গাড়া জরুরি হয়া গেইছে।’

দিনোত যেমন ঠান্ডা, তেমন বাতাস। ঘরের বাইরে বেরা যায় না। রাইতের বেলা বৃষ্টির মতো শীত পড়ে। এদ্যোন থাকলে বুড়া মানুষ গরিব মানুষের অবস্থা কাহিল হইবে।
অহির আলী, কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুরের বাসিন্দা

অহির আলী নামের এক বৃদ্ধ বলেন, ‘দিনোত যেমন ঠান্ডা, তেমন বাতাস। ঘরের বাইরে বেরা যায় না। রাইতের বেলা বৃষ্টির মতো শীত পড়ে। এদ্যোন থাকলে বুড়া মানুষ গরিব মানুষের অবস্থা কাহিল হইবে।’

বিজ্ঞাপন

ব্রহ্মপুত্র নদের তীর যাত্রাপুর ঘাটে দেখা যায়, কয়েকজন যাত্রী নদের পাড়ে দাঁড়িয়ে আছেন পার হওয়ার জন্য। সামনে কুয়াশার কারণে কিছুই দেখা যায় না। ছোট একটি চায়ের দোকানের ভেতর কাঁথা গায়ে দিয়ে কাঁপছিলেন নৌকার মাঝি আইরমারীর চরের শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘শীতে কঠিন অবস্থা গো ভাই। নদীর পাড়ে থাকা যায় না। দুই দিন থাইকা নৌকা চলাইতে পারি না। কুয়াশায় কিছুই দেখা যায় না।’

ঘাটের ছোট পানের দোকানদার আব্দুস ছামাদ সবকিছু বন্ধ করে ভেতরে বসে আছেন। টিনের ছোট দরজা সামান্য খোলা। দরজায় মাথা গলিয়ে জানতে চাই কী অবস্থা? উত্তরে বলেন, ‘ভাই গো, কী আজাব ভাই। বন্যায়ও মরি, শীতেও মরি। এক সপ্তাহ থাকি ঘাটে মানুষ নাই বললেই চলে। মানুষ না থাকলে বেচাকিনা হয় না। ১০০ ট্যাকাও বেচপার পারি নাই।’

শীতে কঠিন অবস্থা গো ভাই। নদীর পাড়ে থাকা যায় না। দুই দিন থাইকা নৌকা চলাইতে পারি না। কুয়াশায় কিছুই দেখা যায় না।
শহিদুল ইসলাম, আইরমারীর চরের নৌকার মাঝি

এদিকে টানা শীতে জেলার হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা শীতজনিত রোগে।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) পুলক কুমার সরকার জানান, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২৫ জন ডায়রিয়া ও ৬ জন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। স্বাভাবিক সময় চেয়ে ১৫ দিন ধরে রোগীর সংখ্যা একটু বেশি বলে জানান তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন