default-image

অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে কুড়িগ্রামের তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। ধরলা নদীর পানি সদরের সেতু পয়েন্টে বেড়ে বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। পানি বৃদ্ধির ফলে নদ-নদী অববাহিকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

তীব্র স্রোতে সদর উপজেলার যাত্রাপুর, ভোগডাঙা, ঘোগাদহ ও হোলখানা, নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ও নুনখাওয়া, ফুলবাড়ী উপজেলার চর মেকলী, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ইসলামপুর ও চিলমারী উপজেলায় চর বজরাসহ জেলার ১৩টি স্থানে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। চর মেকরীতে খন্দকার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাকা মসজিদ ভাঙনের মুখে পড়েছে। এসব স্থানে শত শত বিঘা ফসলি জমি, কাঁচা-পাকা সড়ক, নদী তীর রক্ষা বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ধরলার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় দেড় শতাধিক হেক্টর জমির রোপা আমনসহ ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। পানি স্থায়ী হলে এসব ফসলের ক্ষতি হতে পারে।
উপপরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, উজানের পানির তীব্র স্রোতে এসব এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। গত মাসে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সময় থেকে ভাঙন অব্যাহত আছে। এখন আবার নতুন করে শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে চেষ্টা চলছে জরুরিভাবে কিছু এলাকায় কাজ করার। তিনি বলেন, ‘নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ার কারণে দুই পাড় ভেঙে যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে খনন করা দরকার। তা না হলে সমস্যা থেকেই যাবে।’

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ধরলা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে বৃহস্পতিবার সকালে বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ব্রহ্মপুত্র নদ ও তিস্তা নদীর পানি বাড়লেও তা এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে সবগুলো নদ-নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে নিম্নাঞ্চলের সদ্য রোপণ করা আমন ধানসহ নানা ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান প্রধান বলেন, ধরলার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় দেড় শতাধিক হেক্টর জমির রোপা আমনসহ ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। পানি স্থায়ী হলে এসব ফসলের ক্ষতি হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান উজানে ভারী বৃষ্টির হচ্ছে। সে কারণে জেলার সবগুলো নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0