একই আইনের চার ধারায় ওই তিন আসামিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

সাত আসামির মধ্যে সাদ্দাম হোসেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ায় তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া আসামি গোলাম রব্বানী পলাতক রয়েছেন। বাকি পাঁচজনকে রায় ঘোষণা উপলক্ষে আজ আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে কাঁদতে থাকেন তাঁরা।

রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সরকারি কৌঁসুলি এস এম আব্রাহাম লিংকন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন সরকারিভাবে নিয়োজিত আইনজীবী হুমায়ূন কবীর।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এস এম আব্রাহাম লিংকন বলেন, ‘রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর করতে এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী ধর্মান্তরিত হওয়ায় বিভ্রান্ত হয়ে ও ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে আসামিরা তাঁদের জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন। পরে তাঁরা জবানবন্দি প্রত্যাহারও করেননি। আমরা চাই দ্রুত এ রায় কার্যকর করা হোক।’

আসামিপক্ষের রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত আইনজীবী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পাইনি। রায়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আসামিরা চাইলে রায় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

২০১৬ সালের ২২ মার্চ সকাল সাতটার দিকে কুড়িগ্রাম জেলা শহরের গড়েরপাড় এলাকায় প্রাতর্ভ্রমণে বের হয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী। এ সময় তাঁর বাড়ির সামনে ওত পেতে থাকা জেএমবির সদস্যরা তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় ওই দিনই নিহত ব্যক্তির ছেলে রাহুল আমিন ওরফে আজাদ বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করেন। একই বছরের পাঁচ নভেম্বর আদালতে মামলাগুলোর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর মামলা দুটির অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলার মোট ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন