দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন চিলমারী উপজেলার কাঁচকোল এলাকার রাশেদ (৪০), মকবুল হোসেন (৫৪) ও তসলিম উদ্দিন (৫৬), আবদুল কাদের (৪৩), মিন্টু (৪১), মোসলেম উদ্দিন (৪৪), মোনাল মিয়া ওরফে মোন্নাফ (৪৪) ও নুরু মিয়া (৫০)। রায়ের সময় আসামিদের সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২২ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার কাঁচকোল বাজারে মুদিদোকানি নুরনবীকে তাঁর দোকানে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে শ্যালো মেশিনে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে আসামিদের সঙ্গে নিহত নুরনবীর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে দিলেও আসামিরা তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। এরই জের ধরে নুরনবীর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন এক নম্বর আসামি রাশেদ। পরে পরিকল্পিতভাবে নুরনবীকে হত্যা করা হয় বলে রায়ে উল্লেখ হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন ৯ জনকে আসামি করে চিলমারী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নুরনবীর বাবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোখলেসুর রহমান। ২০১৪ সালে নৌকাডুবিতে মারা যান তিনি। দীর্ঘ শুনানি ও ৪৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে জেলা ও দায়রা জজ আবদুল মান্নানের আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের মধ্যে চান মিয়া নামের একজন মামলা চলা অবস্থায় মারা যাওয়ায় তাঁকে আগেই মামলার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম আব্রাহাম লিংকন। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই রায়ের মধ্য দিয়ে সত্য উন্মোচিত হয়েছে। আদালত যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, তাতে এমন অন্যায় কাজ করতে মানুষ দ্বিতীয়বার ভাববে।

আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আমজাদ হোসেন ও সামসুদ্দোহা রুবেল। রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান তাঁরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন