কুয়াকাটার হোটেল-মোটেলগুলোর অধিকাংশই আগামীকাল সোমবার থেকে এক সপ্তাহের আগাম বুকিং রয়েছে। পর্যটকদের ভিড় দেখে খাবার হোটেল ও ঝিনুক মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও খুশি।

কুয়াকাটা সৈকতে শামুক-ঝিনুক বিক্রেতা সোহাগ হাওলাদার ঈদ উপলক্ষে তাঁর দোকানে মালামাল এনে সাজিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর করোনায় পর্যটকদের আগমন বন্ধ ছিল। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছিল। এখন পর্যটকদের ভিড় বাড়ায় আমরা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। এর অন্যতম কারণ হলো পদ্মা সেতু। এখন ঢাকাসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ সহজেই কুয়াকাটায় চলে আসতে পারবে।’

সৈকতে কথা হয়, ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা সানাউল হক (৪৫) নামের এক পর্যটকের সঙ্গে। সপরিবার কুয়াকাটায় ছুটি কাটাতে এসেছেন তিনি। সানাউল হক বলেন, এর আগে কুয়াকাটায় আসতে ফেরিতে ভোগান্তি পোহাতে হতো। তবে এবার অল্প সময়ে বাসে করে কুয়াকাটায় পৌঁছেছি। খুব ভালো লাগছে।’

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, কুয়াকাটায় অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত হোটেল-মোটেল আছে ৭৪টি। এর বাইরে আছে ৫৬টি হোটেল-মোটেল। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির হোটেল রয়েছে ১৫টি।

এসব হোটেল–মোটেলে সর্বোচ্চ ১৫ হাজারের মতো পর্যটক রাত যাপন করতে পারেন জানিয়ে মোতালেব শরীফ বলেন, ‘সোমবার থেকে আগামী এক সপ্তাহ প্রায় সব হোটেল-মোটেলের ৮০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। আগে শুধু শীতকালে কুয়াকাটায় বেশি পর্যটক বেড়াতে আসতেন, এখন পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সারা বছরই কুয়াকাটায় পর্যটকেরা আসতে পারবেন। সেভাবেই আমরা সবকিছু ঢেলে সাজাচ্ছি।’

কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের বালুচরে ছাতা-বেঞ্চ ভাড়া দিয়ে সংসার চালান নূর হোসেন। তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু খুইল্যা দিছে। ঈদের ছুটিতে মানুষ ভালোই আইবে বইলা মনে হইতেছে। পর্যটকের সংখ্যা বেশি হইলে আমাগো লাভও বেশি হইবে। আগের ক্ষতিও আমরা কাডাইয়া উঠতে পারমু।’

ঈদের ছুটিতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশের কয়েকটি দল প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘সবার নিরাপত্তা দিতে আমরা তৎপর রয়েছি। সাগরের পানিতে গোসল করতে নেমে কেউ যাতে দুর্ঘটনার শিকার না হন, সে জন্য তাঁদের সতর্ক করতে পর্যটন পুলিশের আলাদা দল তৎপর থাকবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন