উপকূলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, মৎস্য ব্যবস্থাপনা ও সমুদ্রের নীল অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডফিসের ইকো ফিশ-২ প্রকল্পের পটুয়াখালী জেলার সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, ‘কুয়াকাটা সৈকতে একের পর এক মৃত ডলফিন, কচ্ছপ, রাজকাঁকড়া ভেসে আসছে। এ নিয়ে আমরা কথা বলছি, অথচ কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। আমরা প্রতিনিয়ত বলে আসছি, এসব সামুদ্রিক প্রাণী কেন মারা যাচ্ছে, তার সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে উদ্যোগ নেওয়া দরকার। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা দপ্তরের কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।’

সাগরিকা স্মৃতি আরও বলেন, কুয়াকাটা–সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের রাবনাবাদ চ্যানেলের মোহনা, আন্ধারমানিক নদের সাগর মোহনা এবং চর বিজয়–সংলগ্ন সাগরবক্ষে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের আধিক্য লক্ষ করা যায়। যেখানে মাছ বেশি থাকে, সেখানে সামুদ্রিক এসব প্রাণীর বিচরণও বেশি থাকে। এসব এলাকায় জেলেদের ফিশিং বোট নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সামুদ্রিক প্রাণীগুলো রক্ষা করা যেত।

গত জানুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত কুয়াকাটা সৈকতে ছয়টি মৃত ডলফিন ও সাতটি মৃত অলিভ রেডলি কচ্ছপ ভেসে এসেছে। এর আগে ২০২০ সালে ১৮টি এবং ২০২১ সালে ২৪টি মৃত ডলফিন ভেসে আসে এই সৈকতে। এ ছাড়া তিন মাস আগে হাজার হাজার জেলিফিশ ভেসে এসে কুয়াকাটা, গঙ্গামতী সৈকতে আটকা পড়ে। মাঝেমধ্যে মৃত রাজকাঁকড়াও ভেসে আসে।

পটুয়াখালী বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘কচ্ছপ, ডলফিনসহ সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আমরা বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন