বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওয়ার্ল্ড ফিস বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার ইকোফিস-২ প্রকল্পের সহকারী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত কুয়াকাটা সৈকত এলাকায় আটটি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। মাছ ধরার সময় জেলেদের জালে এসব ডলফিন আটকা পড়ে। ওই সময় জেলেরা যদি একটু সতর্ক হয়ে জাল থেকে ডলফিন ছাড়িয়ে দেন, তাহলে এসব ডলফিন বেঁচে যায়। তা ছাড়া সমুদ্রে জেলেরা অসচেতন হয়ে ছেঁড়া বা অব্যবহৃত জাল ফেলে দেন। এটি সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।

মৎস্য অধিদপ্তর বরিশালের সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বঙ্গোপসাগরে দুই প্রজাতির ডলফিন পাওয়া যায়। একটি বটলনোজ ডলফিন (বোতলের মতো মুখ) এবং আরেকটি হাম্পব্যাক ডলফিন (পিঠের দিকটা সামান্য ভাঁজ ও কুঁজো)। কুয়াকাটা সৈকত এলাকায় ভেসে আসা এসব ডলফিন হাম্পব্যাক ডলফিন। ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের অগভীর অঞ্চলে এ প্রজাতির ডলফিনের আধিক্য দেখা যায়। এসব ডলফিনের চোয়াল বেশ লম্বা হয় এবং ৩০ থেকে ৩৪টি দাঁত থাকে।

কিছুদিন ধরে কেন এভাবে মৃত ডলফিন ভেসে আসছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে সাসটেনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, তিমি, হাঙর, ডলফিন—এসব হলো ম্যামাল গোত্রীয় প্রাণী। অর্থাৎ মাতৃদুগ্ধ পান করে। এসব প্রাণীকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরপর অক্সিজেন নিতে পানির ওপরের দিকে উঠতে হয়। অক্সিজেন নিতে গিয়ে মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে ফেলা জালের সঙ্গে পেঁচিয়ে, মাছ ধরার ট্রলার অথবা জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে তারা মারা যায়।

কলাপাড়া উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ভেসে আসা ডলফিনসদৃশ মৃত দুই প্রাণীকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন