বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মাহমুদুল হোসেন বগুড়া থেকে ভোরের দিকে খুলনা পৌঁছেছেন। তিনি প্রথম আলোকে জানান, হল ছাড়ার দিন ভোগান্তি ছিল আজ হলে ফেরার পরও একই অবস্থা। শীতের সময় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে আবার হলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকাটা খুবই কষ্টের।

অমর একুশে হলের সামনে বসেছিলেন বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. তানজিমুল ইসলাম। গাইবান্ধা থেকে দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে সকাল সাতটার দিকে তিনি হলে পৌঁছেছেন। তানজিমুল বলেন, ‘১৬ ঘণ্টা জার্নি করে এসে আবার এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক বেশি ভোগান্তিকর। সব হলের সামনেই তো সবাই দাঁড়িয়ে আছে। সকাল ১০টার সময় হল খুলে দেবে এটার কোনো যৌক্তিকতা পাচ্ছি না। আজ অন্তত সকাল থেকেই হল খুলে রাখা উচিত ছিল।’

তানজিমুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমাদের মতো যাদের বাসা বেশি দূরে তারা সব সময় একটু আগেভাগে আসতে চায়। যাতে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর আগে জার্নির ধকল একটু কাটানো যায়। এবার আবার হল খোলার এক দিন পরই একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। হুট করে এসেই তো একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা যায় না।’

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ফরহাদ হোসেন ও ইইই বিভাগের প্রিয়তোষ বণিক রাতের ট্রেনে ঢাকা থেকে খুলনায় পৌঁছেছেন। তাঁরা বলেন, ‘আমাদের মতো অনেকে ফিরেছে। অনেকে ক্যাম্পাসে অপেক্ষা করছে। অনেকে আবার এসে আপাতত বন্ধুর বাসা বা মেসে উঠেছে। কষ্ট হচ্ছে তারপরও ক্যাম্পাসে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে।’

কুয়েট ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক ইসমাঈল সাইফুল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্তে কুয়েটে ছেলেদের ৬টি, মেয়েদের ১টিসহ মোট ৭টি হল আজ সকাল ১০টা থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই হলগুলো পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলেছে। হলে শিক্ষার্থী পৌঁছানো সাপেক্ষে প্রভোস্টরা ডাইনিং চালুর ব্যবস্থা নেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৮তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় গত ৩ থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

একই সঙ্গে ওই দিন বিকেল চারটার মধ্যে আবাসিক ছাত্রছাত্রীদের হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সেই ছুটি দুই দফা বাড়িয়ে আজ থেকে হল এবং আগামী রোববার থেকে (৯ জানুয়ারি) ক্লাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। করোনার দীর্ঘ ছুটির পর গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ক্যাম্পাস খুলেছিল।

এদিকে গতকাল শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষকেরা। শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে অধ্যাপক সেলিমের পরিবারকে ১০ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত করে দেওয়া হচ্ছে।


এদিকে গত বুধবার কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ানসহ চার শিক্ষার্থীকে চিরতরে বহিষ্কার করেছে ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটি। এ ছাড়া আরও ৪০ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীরা সবাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী।

বুধবার দুপুরের সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। ছাত্রকল্যাণ পরিষদের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে কোনো ছাত্রসংগঠন মিছিল-সমাবেশ করতে পারবে না বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রসংগঠনের সব ধরনের ব্যানার, পোস্টার ফেস্টুন অপসারণ করার সিদ্ধান্ত হয়। ওই সভায় অধ্যাপক সেলিমের স্ত্রীর চাকরির আবেদনের বিষয়টি পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা এবং ওই শিক্ষকের পাওনা টাকা দ্রুত দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

গত ৩০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ সেলিম হোসেন ক্যাম্পাসের কাছের ভাড়া বাসায় মারা যান। ওই শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল ছুটি ঘোষণা করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন