বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কুয়েট ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যসচিব ও ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক অধ্যাপক ইসমাঈল সাইফুল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় আট ঘণ্টা সভা করেও আজ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সভায় উপস্থিত সব সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে প্রথম দিনের মতো সভা মুলতবি করা হয়েছে। আগামীকাল সকাল ৯টায় আবারও সভা বসবে। অনেক লম্বা তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে; পাশাপাশি ৪৪ শিক্ষার্থীর জবাব পর্যালোচনা শেষ হয়েছে। সবকিছু মিলেই এতটা সময় লেগেছে।

কুয়েটের লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ মো. সেলিম হোসেনের (৩৮) মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৪ শিক্ষার্থীর কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব পর্যালোচনা এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য আজ মঙ্গলবার এই সভা বসে।

অধ্যাপক ইসমাঈল বলেন, আগামীকাল ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সভা থেকেই সিদ্ধান্ত আসবে। সর্বনিম্ন সতর্কীকরণ থেকে সর্বোচ্চ স্থায়ী বহিষ্কার করার ক্ষমতা রাখে ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটি। অভিযুক্তদের কী ধরনের শাস্তি হবে বা হবে না, তা সভা শেষ না করে বলা যাচ্ছে না। সভা শেষে সভার সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হবে। আগামীকালই সিন্ডিকেট বসবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৭৬তম জরুরি সভায় কর্তৃপক্ষের গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গত ২৮ নভেম্বর প্রশাসনের কাছে ৯টি সুপারিশসহ ৪৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে নাম আসা ৪৪ শিক্ষার্থীকে গত ২৯ ডিসেম্বর শোকজ করা হয়। অপরাধের প্রকৃতি উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ছাত্র শৃঙ্খলাবিধি অনুয়ায়ী কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার জবাব দিতে বলা হয়েছিল। তাঁদের ৩ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবাই লিখিত জবাব দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হয়তো সরাসরি যুক্ত ছিলেন না, তবে ওই শিক্ষকের ওপর মানসিক চাপ ছিল। অধ্যাপক মো. সেলিমের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা যে শৃঙ্খলাভঙ্গ করেছেন, তার প্রমাণ পেয়েছে কমিটি।

এদিকে আগামীকাল সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত জানার পর ৬ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে সাধারণ সভা করবে শিক্ষক সমিতি। ওই সভায় শিক্ষক সমিতি ক্লাসে ফেরা না ফেরাসহ তাদের পরবর্তী অবস্থানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

ঘটনাপ্রবাহ

গত ৩০ নভেম্বর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ সেলিম হোসেন ক্যাম্পাসের কাছের ভাড়া বাসায় মারা যান। শিক্ষক সেলিমের মৃত্যুর পর অভিযোগ ওঠে, মৃত্যুর দিন দুপুরে বাসায় ফেরার পথে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অধ্যাপক সেলিমকে বিভাগে তাঁর কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর ওপর মানসিক নিপীড়ন চালানো হয়। এ ছাড়া কুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ কয়েকজন ছাত্র তাঁদের মনোনীত প্রার্থীকে ডাইনিং ম্যানেজার করার জন্য হল প্রভোস্ট সেলিম হোসেনকে নিয়মিত চাপ দিয়ে আসছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বলছে, এটি হত্যাকাণ্ড। অধ্যাপক সেলিমের পরিবারও এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছে।

ওই শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল ছুটি ঘোষণা করা হয়। সেই ছুটি দুই দফা বাড়িয়ে ৭ জানুয়ারি হল এবং ৯ জানুয়ারি ক্লাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন