বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে রাসমোহন সাহা আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, সোনালী ব্যাংক ময়মনসিংহ অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুল মজিদের নির্দেশে তিনি আজ সকালে ব্যাংকের কেন্দুয়া শাখা পরিদর্শন করেছেন। চেক জালিয়াতি করে সাত লাখ টাকা তোলার ঘটনায় তাঁকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ওই শাখায় দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপক আরিফ আহম্মদকে প্রত্যাহার করে তাঁর স্থলে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার শাহজালাল মিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় ওই টাকা উদ্ধার করা হয়। তবে এলাকাবাসী বলছেন, এই জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকের লোকজনও জড়িত।

গত রোববার দুপুরে পূর্ণতা আক্তার (২৫) নামের এক নারী পারভিন আক্তার (৩২) নামের অন্য এক নারীর চেক জালিয়াতি করে সাত লাখ টাকা তুলে নেন। বিষয়টি টের পেয়ে পারভিন আক্তার ওই ব্যাংকের কর্মকর্তাদের শরণাপন্ন হন। গতকাল সোমবার দুপুরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় ওই টাকা উদ্ধার করা হয়। তবে এলাকাবাসী বলছেন, এই জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকের লোকজনও জড়িত। অভিযুক্ত পূর্ণতা আক্তারের বাড়ি কেন্দুয়া পৌর এলাকার বাদে আঠারবাড়ী মহল্লায়। তিনি ওই এলাকার মামুন মিয়ার স্ত্রী। ঘটনার শিকার পারভিন আক্তারের বাড়ি একই উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের ছিলিমপুর গ্রামে।

ব্যাংকের কর্মকর্তা, গ্রাহক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্ণতা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে সোনালী ব্যাংকের কেন্দুয়া শাখায় বয়স্ক, বিধবা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতাভোগী গ্রাহককে চেক লিখে দেওয়াসহ টাকা তুলতে সহায়তা করে আসছিলেন। এর বিনিময়ে তিনি কিছু পারিশ্রমিক নেন। কিছুদিন আগে পারভিন আক্তার সোনালী ব্যাংকের ওই শাখায় আসেন। তাঁকে হিসাব খুলতে সাহায্য করেন পূর্ণতা। হিসাব খোলার পর ব্যাংকের দেওয়া পারভিনের চেক বই থেকে পূর্ণতা কৌশলে একটি পাতা ছিঁড়ে নেন। তিনি ওই চেকে পারভিনের সই নকল করে তাঁর হিসাব নম্বর থেকে গত রোববার দুপুরে সাত লাখ টাকা তুলে নেন। টাকা তোলার বিষয়ে পারভিনের মুঠোফোনে খুদেবার্তা গেলে তিনি দ্রুত ব্যাংকে হাজির হয়ে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। ব্যাংকের কর্মকর্তারা তখন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর রাত ১১টা পর্যন্ত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। সোমবার দুপুরে পূর্ণতার কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করে পারভিনকে ফিরিয়ে দেন তাঁরা। তবে সেদিন জালিয়াতির বিষয়ে ওই নারী বা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ নিয়ে গতকাল প্রথম আলোতে ‘জালিয়াতি করে ব্যাংক থেকে তুলে নিয়েছিলেন সাত লাখ টাকা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন