বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ রোববার সকাল আটটায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বেলা দুইটার দিকে রুহিয়া পশ্চিম ইউপির ধনতলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে যান স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী। সে সময় তাঁরা কেন্দ্রে কয়েক ব্যক্তিকে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে নৌকায় সিল মারতে দেখেন। ছবি তুলতে গেলে নৌকার কর্মী ওসমান গনির নেতৃত্বে তাঁরা সাংবাদিকদের মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে এক সাংবাদিকের ক্যামেরা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসে হামলাকারী ব্যক্তিদের লাঠিপেটা করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।

নৌকার কর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হন দৈনিক মতপ্রকাশের স্থানীয় প্রতিনিধি হাসিনুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হামলাকারীরা “এই কেন্দ্রে কোনো সাংবাদিক থাকবে না” বলতে বলতে আমাদের মারধর করতে থাকেন। সে সময় পুলিশ এসে আমাদের রক্ষা করে।’

এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আখানগর ইউপির ঝাঁড়গাঁও রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে নৌকার কয়েকজন কর্মী কেন্দ্রে ঢুকে দরজা বন্ধ করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেন এবং প্রকাশ্যে সিল মারতে থাকেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে তাঁরা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে আরও কয়েকজন যোগ দিয়ে পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিত করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৫টি ফাঁকা রাবার বুলেট ছোড়ে। এরপর ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত আখানগর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাবুল হোসেনকে আটক করা হয়। এমন অবস্থায় কেন্দ্রটিতে আধা ঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে।

কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজ বলেন, হঠাৎ কিছু দুষ্কৃতকারী কেন্দ্রে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের জেল-জরিমানা দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকিবুজ্জামান বলেন, ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে কাবুল হোসেনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও তাঁর মেয়ে কামরুন নাহারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ২০টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৭৩ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদে ২০৯ জন, সাধারণ সদস্যপদে ৬৭৮ জন প্রার্থী ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন