বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, নগরে প্রায় ৭৫ হাজার গৃহ আছে। এগুলোর মধ্যে নতুন করে গৃহ করের আওতায় আসবে ২০ হাজার ৬৩০টি স্থাপনা। ২০১১ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এখন নগরে গৃহ কর ১১৩ কোটি ২৭ লাখ ৫ হাজার ৪৪৫ টাকা আসবে বলে ধরা হয়েছে। আর যদি ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জরিপ হতো, তাহলে করের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াত প্রায় ২২৫ কোটি টাকায়। তবে আমরা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা দিতে চাইনি। এমনিতে করোনা পরিস্থিতিতে মানুষজন বিপাকে পড়েছেন, তাই ২০১১ সালের অনুযায়ী গৃহ কর ধরা হয়েছে। এই জরিপ শেষ হওয়ার পর এখন আমরা বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে মতামত নিচ্ছি। এই মতামত নেওয়া শেষ হলে আমরা সরাসরি যাব ওয়ার্ড পর্যায়ে। সেখানে আমরা গণশুনানি দেব এবং ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলব। ২৭টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা শেষ হওয়ার পরে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে একটা গৃহ কর ধার্য করা হবে। এরপরও যদি কারও আপত্তি থাকে, তাহলে আমরা একটা রিভিউ বোর্ড গঠন করব। এই রিভিউ বোর্ডের কাছে আপিল করা যাবে।

প্রথম আলো: নতুন করে ২০ হাজার ৬৩০টি স্থাপনা গৃহ করের আওতায় আসবে বলে আপনি জানাচ্ছেন...

আরিফুল হক চৌধুরী: সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের আমলে ২০০৬ সালে সর্বশেষ গৃহ জরিপ হয়েছিল। তখন ৫৪ হাজার হোল্ডিং ছিল। সেখানে আমরা হাত দিইনি। কেবল এর বাইরে থাকা নগরের ২০ হাজার ৬৩০টি স্থাপনা আছে, যেখানে কর নির্ধারণ করা হয়নি, নতুন জরিপে কেবল সেসব স্থাপনাকেই নিয়ে আসা হয়েছে। সর্বশেষ জরিপের পর নতুনভাবে যাঁরা ভবন, কলোনি কিংবা ফ্ল্যাট বানিয়েছেন, কেবল সেসবই জরিপ করা হয়েছে। ২৭টি ওয়ার্ডের নতুন এই ভবন-কলোনি-ফ্ল্যাটই কেবল গৃহ করের আওতায় আসবে। উচিতমতে, পুরোনো বাসাবাড়িও পুনর্জরিপ করা দরকার। কিন্তু কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সেটা আর করছি না। কেবল নতুন বাসাবাড়ি গৃহকরের আওতায় আনা হবে। এই উদ্যোগই নেওয়া হয়েছে।

প্রথম আলো: আপনারা নতুনভাবে যে জরিপ করেছেন, এতে গৃহ করের হার কত ধরা হয়েছে?

আরিফুল হক চৌধুরী: বাণিজ্যিক গৃহের জন্য কর হচ্ছে প্রতি ফুটে ৮ টাকা। প্রতি ফুটে ৫ টাকা হচ্ছে অবাণিজ্যিক গৃহের জন্য। আর টিনশেডের ঘরের ক্ষেত্রে প্রতি ফুট ৩ টাকা। এটা হচ্ছে ২০১১ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী। ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তা দ্বিগুণের বেশি হয়ে যায়। তাই বাড়তি করের চাপ নাগরিকদের না দিতেই ২০১১ সালের প্রজ্ঞাপনকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।

প্রথম আলো: কয় কিস্তিতে গৃহ কর দিতে হয়?

আরিফুল হক চৌধুরী: বছরে করের যে টাকা আসবে, সেটা চার কিস্তিতে দিতে হয়।

প্রথম আলো: পুরোনো ৫৪ হাজার হোল্ডিংয়ের মালিকেরা কোন প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে গৃহ কর দেন?

আরিফুল হক চৌধুরী: তাঁরা সম্ভবত ২০০৫ অথবা ২০০৭ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী গৃহ কর দেন। সে অনুযায়ী তাঁরা এখনো আগের নিয়মেই কর দেবেন। পুরোনো হোল্ডিংধারীদের কাছে আমাদের অন্তত ১০০ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা আছে।

প্রথম আলো: পুরোনোরা আগের নিয়মে, আর এখন যাঁরা নতুন গৃহ কর দেবেন, তাঁরা ২০১১ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী দেবেন। এতে বৈষম্য হবে না?

আরিফুল হক চৌধুরী: যাঁরা নতুন বাড়ি তৈরি করেছেন, সেগুলোর বেশির ভাগই ২০১১ সালের পরে তৈরি হয়েছে। তাই নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ীই তাঁরা গৃহ কর দেবেন। এতে বৈষম্য হবে না।

প্রথম আলো: বাম দলসহ বেশ কিছু সামাজিক সংগঠন নতুন করে গৃহ কর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। কীভাবে দেখছেন বিষয়টি?

আরিফুল হক চৌধুরী: তাঁরা বিষয়টি না বুঝেই বিরোধিতা করছেন। দি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (ট্যাক্সেশন) আইন, ১৯৮৬ অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত সব বাণিজ্যিক ও অবাণিজ্যিক গৃহ-ভবন, ব্যক্তিমালিকানাধীন বাসাবাড়ির কর নির্ধারণ করতে হয়। আপনি যদি বাসায় ভাড়াটেও দেন, তাহলেও তো ৫ বছর পরপর ভাড়া ৫ শতাংশ বাড়াতে পারবেন। অথচ সিলেট সিটি করপোরেশনে এক যুগের বেশি সময় ধরে গৃহ কর বাড়ানো হয়নি। বাংলাদেশে সবচেয়ে কম ট্যাক্সেশন সিলেটে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন