সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টসপল্লির পোশাকের মার্কেট ও দোকানপাট এভাবেই খোলা রাখা হয়। সোমবার দুপুরে কেরানীগঞ্জের পূর্ব আগানগর এলাকায়
সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টসপল্লির পোশাকের মার্কেট ও দোকানপাট এভাবেই খোলা রাখা হয়। সোমবার দুপুরে কেরানীগঞ্জের পূর্ব আগানগর এলাকায়প্রথম আলো

সরকারঘোষিত সাত দিনের লকডাউনের প্রথম দিন সোমবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের কোথাও মানা হয়নি। দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও আগের মতোই চলেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক। বেশির ভাগ বিপণিবিতান ও দোকানের মালিকেরা দোকানপাট খুলেছিলেন।

বিকেলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান সোহেল। অভিযানে কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকায় লায়ন শপার্স ওয়ার্ল্ড, জিনজিরা এলাকায় ফ্যামিলি শপিং মল, রোহিতপুর, আবদুল্লাহপুর ও রাজাবাড়ির এলাকার কয়েকটি বিপণিবিতান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে দোকানপাট খোলা রাখার অভিযোগে কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর এলাকায় তিনটি দোকানমালিকের প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া মাস্ক পরিধান না করায় পাঁচজনকে আটক করে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

কেরানীগঞ্জে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও আগের মতোই চলেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক। বেশির ভাগ বিপণিবিতান ও দোকানের মালিকেরা দোকানপাট খুলেছিলেন।

তবে লায়ন শপার্স ওয়ার্ল্ডের ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি এনায়েত করিম চৌধুরী প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের ১৮ দফা অনুযায়ী মাস্ক ও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ব্যবসা করছি।’

default-image

কেরানীগঞ্জের জিনজিরা, আগানগর, কদমতলী, চরকালিগঞ্জ, চুনকুটিয়া, আটিবাজার, হাসনাবাদ, ইকুরিয়া, রোহিতপুরসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ কাঁচাবাজারগুলোতে মানুষের ভিড় ছিল। বাজারে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। বাজারে আসা অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক ছিল না। সকাল দিকে বিভিন্ন এলাকায় কিছু কিছু ব্যবসায়ীকে তাঁদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে দেখা গেছে। কয়েকটি চায়ের দোকান খোলা রাখায় সেখানে মানুষের সমাগমও ছিল।

বিজ্ঞাপন
মার্কেট ও দোকান বন্ধ রাখার জন্য বারবার ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সেটি মানছেন না।
মুসলিম ঢালী, সাধারণ সম্পাদক, কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতি

এদিকে দুপুরে আগানগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর শাহকে পূর্ব আগানগর এলাকায় কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টসপল্লি তৈরি পোশাক মার্কেটে গিয়ে দোকানদার, কর্মচারী ও এলাকাবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং মাস্ক পরার জন্য সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।

default-image

ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর শাহ বলেন, আজ থেকে সরকার সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মানুষজন ও ব্যবসায়ীদের বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সেটি মানছেন না।

চুনকুটিয়া এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, সরকারের লকডাউন ঘোষণার আজ প্রথম দিন। এই লকডাউন সাত দিন চলবে, নাকি এর সময়সীমা আরও বাড়বে, সে বিষয় নিশ্চিত না। তাই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী কিনতে এসেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সরকারের লকডাউন ঘোষণার পর থেকে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। জনগণের স্বার্থে প্রশাসনের এই বিষয়গুলো নজরদারি করা উচিত।

default-image

কেরানীগঞ্জে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুসলিম ঢালী বলেন, সরকারের নির্দেশ মোতাবেক গত রোববার গার্মেন্টসপল্লির তৈরি পোশাকের সব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু কিছু দোকানদার ও ব্যবসায়ী নির্দেশ উপেক্ষা করে দোকান খুলেছেন। অথচ কোনো ক্রেতার দেখা নেই। তিনি আরও বলেন, মার্কেট ও দোকান বন্ধ রাখার জন্য বারবার ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সেটি মানছেন না।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান সোহেল বলেন, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে দোকানপাট খোল রাখা যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে সবাইকে চলাচল করতে হবে। কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকায় আজ লায়ন শপার্স ওয়ার্ল্ড, জিনজিরা এলাকায় ফ্যামিলি শপিং মল, রোহিতপুর, আবদুল্লাহপুর ও রাজাবাড়ির এলাকার কয়েকটি বিপণিবিতান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দেব নাথ বলেন, সরকারের নির্দেশ রয়েছে লকডাউন চলার সময়ে বিপণিবিতান ও দোকানপাট বন্ধ রাখতে হবে। এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যেসব দোকান খোলা রাখা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

default-image

এদিকে সকাল ছয়টা থেকে ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। টার্মিনালের পন্টুনে কোনো লঞ্চ নোঙর করা অবস্থায় ছিল না। টার্মিনাল এলাকা জনমানবশূন্য দেখা গেছে।

অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থার সদস্য ও গাজী লঞ্চের মালিক বাবু গাজী বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৪১টি রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন