এর আগে ১৭ আগস্ট কেশবপুরের বাসিন্দা ডিশ ব্যবসায়ী খন্দকার মফিদুল ইসলাম বাদী হয়ে কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন। আদালত ওই মামলা গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এদিকে ২৮ আগস্ট প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে শান্তিপ্রিয় মানুষ দাবি করেন মেয়র রফিকুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারও কাছ থেকে আমি কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করিনি। আমার বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটাও বুঝতে পারছি না।’

চাঁদার টাকা না দেওয়ার কারণে ২৫ আগস্ট বিকেল পাঁচটার দিকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাদীর ফার্মেসিতে হামলা চালান আসামি রাজীব খান, জুয়েল হোসেন, জামাল শেখ ও বাপ্পী।

মিজানুর রহমানের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা কেশবপুর উপজেলার চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং ত্রাস সৃষ্টিকারী। মেয়র রফিকুল ইসলাম তাঁদের ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত। তাঁর হুকুম ও নেতৃত্বে সব অপকর্ম সংগঠিত হয়। কেশবপুর বাজারে আল্লাহর দান ফার্মেসি নামে বাদীর একটি ওষুধের দোকান রয়েছে। আসামিরা বিভিন্ন সময়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় আসামিরা বাদীকে কেশবপুর বাজারে ব্যবসা করতে দেবেন না এবং খুনের হুমকি দেন। তাঁদের কথায় কর্ণপাত না করায় আসামি রাজীব খান দ্রুত দুই লাখ টাকা নিয়ে আসামি মেয়র রফিকুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। রফিকুল ইসলামের সঙ্গে দেখা না করায় এবং চাঁদার টাকা না দেওয়ার কারণে ২৫ আগস্ট বিকেল পাঁচটার দিকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাদীর ফার্মেসিতে হামলা চালান আসামি রাজীব খান, জুয়েল হোসেন, জামাল শেখ ও বাপ্পী। এ সময় বাদীকে পিটিয়ে জখম করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাশবক্স থেকে ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন তাঁরা। একপর্যায়ে অপর আসামি মাহাবুবুর রহমান ফার্মেসির ড্রয়ারে থাকা সোনালী ব্যাংক কেশবপুর শাখার চেক বইয়ের তিনটি ফাঁকা পাতা জোরপূর্বক নিয়ে নেন।

মিজানুর রহমান শিমুল নামে আমি কাউকে চিনতেছি না। এ নামে আমার পৌর এলাকায় কেউ নেই। চাঁদাবাজির ঘটনাটি সত্য না। আমার একটি প্রতিপক্ষ এসব মিথ্যা মামলা করিয়ে আমার রাজনৈতিক ফিল্ড নষ্ট করতে চাচ্ছে।
রফিকুল ইসলাম, কেশবপুর পৌর মেয়র

এজাহারে আরও বলা হয়, রফিকুল ইসলামের হুকুমে অপর আসামিরা বাদীর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও চাবি কেড়ে নেন। এরপর গলায় রামদা ধরে ১০০ টাকা মূল্যের তিনটি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। বাদীর চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা বাদীর মোটরসাইকেল চালিয়ে পালিয়ে যান। এ সময় আসামিরা ৩০ হাজার টাকা নিয়ে গিয়ে অবশিষ্ট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে মোটরসাইকেল, ফাঁকা চেকের পাতা ও স্বাক্ষর করা নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ফেরত নিতে বলে যান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সঞ্জীব কুমার সরকার বলেন, আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ৬ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন পিবিআইকে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কেশবপুর পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মিজানুর রহমান শিমুল নামে আমি কাউকে চিনতেছি না। এ নামে আমার পৌর এলাকায় কেউ নেই। চাঁদাবাজির ঘটনাটি সত্য না। আমার একটি প্রতিপক্ষ এসব মিথ্যা মামলা করিয়ে আমার রাজনৈতিক ফিল্ড নষ্ট করতে চাচ্ছে। সঙ্গে স্থানীয় (যশোর-৬) সাংসদ শাহীন চাকলাদারের ইমেজেও কালিমা লেপন করতে চায় নতুন প্রতিপক্ষ হওয়া অংশটি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন