default-image

যশোরের কেশবপুরে খোঁজা খালের পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় পানির রং কালো হয়ে গেছে। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে আশপাশের লোকজন ভোগান্তিতে পড়েছেন। খালের পানি হরিহর নদে গিয়েও দূষণ ঘটাচ্ছে।

খালের পানি দূষিত হওয়ার বিষয়ে এলাকার কয়েকজন বলেন, বোরো আবাদের জন্য বিল বলধালিসহ উজানের এলাকার অসংখ্য মাছের ঘের সেচ দিয়ে পানিশূন্য করা হচ্ছে। এই পানি খোঁজা খাল দিয়ে বের হচ্ছে। অনেক ঘেরে পানি দূষিত থাকে। আবার এলাকার পোলট্রি খামারের মল খালে ফেলার কারণেও পানি দূষিত হয়।

বলধালি বিলের মূলগ্রাম থেকে খোঁজা খালের সৃষ্টি। এটি হাবাসপোল, মধ্যকুল গ্রাম হয়ে শহরের শ্রীগঞ্জ পুরোনো সেতু এলাকায় হরিহর নদের সঙ্গে মিশেছে। এর দৈর্ঘ্য ৯ কিলোমিটার। বর্ষা মৌসুমে মনিরামপুর এলাকার পানি এই খাল দিয়ে হরিহর নদে পড়ে।

এক সপ্তাহ ধরে খোঁজা খালের পানি কালো হয়ে গেছে। পানি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। গত সোমবার কেশবপুর শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড থেকে হাবাসপোল সেতু পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে দেখা যায় খালের পানির রং কালো। পানি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। কয়েক জায়গায় দেশি জাতের ছোট মাছ মরে ভেসে উঠেছে। পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকার সেতুটি দিয়ে চলাচলের সময় অনেকে নাকে কাপড় দিয়ে পার হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন
পানির দুর্গন্ধে বাসাবাড়িতে টেকা কষ্ট হয়ে গেছে।
দীপঙ্কর অধিকারী, স্থানীয় বাসিন্দা

মধ্যকুল এলাকার রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘পানির দুর্গন্ধে পেট ফুলে উঠতেছে। বাড়িতি আমরা থাকতিও পারতিছিনে।’

একই এলাকার ইব্রাহিম খলিল ও সিজান খান বলেন, খালের পানিতে নামা যাচ্ছে না। এই পানি দিয়ে কোনো কাজ করা যাচ্ছে না। পানির কাছে গেলেই দুর্গন্ধ পাওয়া যায়।

কেশবপুর শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা দীপঙ্কর অধিকারী বলেন, পানির দুর্গন্ধে বাসাবাড়িতে টেকা কষ্ট হয়ে গেছে।

এ সম্পর্কে কেশবপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্সী আসাদুল্লাহ বলেন, পানিদূষণের অভিযোগ পেয়েছেন। দূষণ এলাকা ঘুরে কারণ খুঁজে উপজেলা উন্নয়ন সভায় বিষয়টি তুলবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখছি কী কারণে পানি দূষিত হয়েছে।’

মন্তব্য করুন