default-image

রাজশাহীর বাগমারায় এক তরুণ (২৪) খালার বাড়িতে বেড়ানো অবস্থায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার প্রতিবেদন পেয়েছেন। জানা গেছে, তিনি ১১ দিন আগে পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছিলেন। প্রতিবেদন পেতে দেরি হওয়ায় খালার বাড়িতে বেড়াতে চলে যান। সেখানে অবস্থানকালে আজ রোববার তিনি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন।

হাসপাতাল ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার ওই তরুণ দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে স্বর্ণের দোকানে কাজ করেন। তাঁর শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ জ্বর, হাঁচি–কাশি দেখা দেওয়ার পর ১৪ জুন বাড়িতে আসেন। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় লোকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে তথ্য দেন। পরে সেখান থেকে ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১৬ জুন তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। এদিকে ফলাফল আসতে দেরি হওয়ার কারণে তিনি নিজেকে করোনাভাইরাস নেগেটিভ ধরে নিয়ে এলাকায় স্বাভাবিক চলাফেরা শুরু করেন।

এই অবস্থায় পাঁচ দিন আগে ওই তরুণ জেলার বাঘা উপজেলার আড়ানী এলাকায় তাঁর খালার বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানেই তিনি অবস্থান করেন। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে মেলামেশা করেন। এলাকায় ঘুরে বেড়ান। এ অবস্থায় আজ দুপুরে রাজশাহীর পরীক্ষাগার থেকে ওই তরুণসহ তিনজনের করোনাভাইরাস সংক্রমণ পজিটিভ আসার প্রতিবেদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছায়। সেখান থেকে তাঁকে মুঠোফোনে এ তথ্য জানানো হয়। এ সময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানতে পারেন, তিনি খালার বাড়িতে অবস্থান করছেন। পরে তাঁকে সেখানে অবস্থানের নির্দেশ দিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।

ওই তরুণের স্বজনেরা প্রথম আলোকে বলেন, নমুনা নেওয়ার ১১ দিন পর প্রতিবেদন আসাতে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা ধরে নিয়েছিলেন, তরুণ কোভিড–১৯ আক্রান্ত নন। এ জন্য তাঁর চলাচলে বাধা দেওয়া হয়নি। এই সময়ে অনেকে তাঁর সংস্পর্শে এসেছেন।
এদিকে আক্রান্ত ওই তরুণ আজ রাত আটটায় মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, তিনি ধরে নিয়েছিলেন তাঁর প্রতিবেদন নেগেটিভ আসবে। এ জন্য খালার বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। এ ছাড়া এখন তিনি সুস্থ আছেন। তবে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর তাঁকে বাড়িতে যাওয়ার জন্য খালার পরিবার থেকে বলা হচ্ছে। কাল সোমবার খালার বাড়ি থেকে তিনি সরাসরি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী জানান, ওই তরুণের নমুনা নেওয়ার পর তাঁকে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রতিবেদন আসার পর ফোন করে জানতে পেরেছেন, তিনি (তরুণ) খালার বাড়িতে বেড়াতে গেছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0