default-image

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সেতুমন্ত্রীর অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান নুর নবী চৌধুরীর ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং সেতুমন্ত্রীর ভাই কাদের মির্জার অনুসারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত নুর নবী চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নুরুজ্জামান স্বপনের ওপর হামলার প্রতিবাদে পাঁচটি ইউনিয়নে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে উপজেলা আওয়ামী লীগ কমিটির অনুসারীরা।

অন্যদিকে, কাদের মির্জার অনুসারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে তাঁর সমর্থকেরা রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বসুরহাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থানে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

সরকারঘোষিত কঠোর লকডাউনের মধ্যে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ কর্মসূচির সমালোচনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে। বসুরহাট পৌর এলাকার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লকডাউনে যেখানে সব ধরনের সভা-সমাবেশ বন্ধ, সেখানে কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের কর্মসূচির বিষয়ে প্রশাসন নীরব, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, নুর নবী চৌধুরী ও নুরুজ্জামান স্বপনের ওপর হামলার প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগের অনুসারীরা চরকাঁকড়া ইউনিয়নের রাস্তার মাথা বাজারে, মছুপুর, চরফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশিরহাট বাজারে, চরপার্বতী ইউনিয়নের চৌধরীহাট বাজার, চরএলাহী ইউনিয়নের চরএলাহী বাজার, রামপুর ইউনিয়নের বামনী বাজারে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।

বিজ্ঞাপন

চরকাঁকড়ার রাস্তার মাথার বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন চরকাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান ওরফে আরিফ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জায়দল হক ওরফে কচি, চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশ্রাফ হোসেন ওরফে রভেন্স, সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নুরে এ মাওলা ওরফে রাজু প্রমুখ।

বক্তারা কাদের মির্জার নির্দেশে আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর হামলা হয়েছে দাবি করে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

লকডাউন উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ কর্মসূচির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল হক মীর প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎ করে উভয় পক্ষ বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে। তাই তাৎক্ষণিক কিছু করা সম্ভব হয়নি। তবে আজ উভয় পক্ষকে নিষেধ করা হয়েছে লকডাউন চলাকালে কোনো ধরনের কর্মসূচি না দেওয়ার জন্য।

গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নুর নবী চৌধুরীর ওপর এবং দুপুর ১২টার দিকে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নুরুজ্জামান স্বপনের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে নুর নবী চৌধুরীর বাঁ পায়ে গুলি করেন দুর্বৃত্তরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ ঘটনার জন্য কাদের মির্জার অনুসারীদের দায়ী করা হয়েছে। যদিও বসুরহাটের মেয়র কাদের মির্জা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন