বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বরিশাল বিভাগে প্রাণিসম্পদের এই ঘাটতি এবারই প্রথম নয়। বলতে গেলে, এই বিভাগ কখনোই গবাদিপশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়নি।
এ সংকট দক্ষিণাঞ্চলে অনেকটা স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা বলছেন, এমনিতেই বিভাগজুড়ে গবাদিপশুর ঘাটতি আছে। তারপরে এবারের প্রেক্ষাপট আরও জটিল। কারণ, চলমান করোনা সংকটের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ। ফলে সেখানে যাওয়া এবং গরু কিনে নিয়ে আসা অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে যথাসময়ে মোকামে পৌঁছে প্রয়োজনীয়সংখ্যক গবাদিপশু আনতে পারবেন কি না, এ নিয়েও সংশয়ে আছেন।

এদিকে করোনা সংক্রমণ রোধে গবাদিপশুর হাটে ভিড় কমাতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গবাদিপশু বেচাকেনার কার্যক্রম শুরু করলে তাতে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি।

বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিভাগের ছয় জেলায় ৪ লাখ ৯৮ হাজার ১৭১টি গবাদিপশু কোরবানি দেওয়া হয়েছিল। চামড়া সংগ্রহের ভিত্তিতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ এই সংখ্যা নির্ধারণ করেছে। বিগত বছরের চেয়ে ৩ ভাগ বৃদ্ধি ধরে কোরবানির জন্য গবাদিপশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়। সে হিসাবে এ বছর বিভাগে কোরবানির জন্য গবাদিপশুর চাহিদা ৫ লাখ ২৫ হাজার।

default-image

বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক দীপক রঞ্জন রায় বলেন, ছয় জেলায় স্থানীয় খামারিদের কাছে কোরবানিযোগ্য পশু আছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৭৪টি। সে হিসাবে বরিশাল বিভাগে চাহিদার প্রায় ৪ ভাগের ১ ভাগ গবাদিপশু মজুত আছে স্থানীয় খামারিদের হাতে।

যদিও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে করোনাকালীন আর্থিক সংকট থাকায় এবার তিন ভাগ হারে পশুর চাহিদা না-ও হতে পারে। এ ছাড়া লকডাউনের মধ্যেও কৃষিপণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা না থাকায় বিভিন্নভাবে পাইকারেরা যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলার মোকামে গিয়ে গরু এনেছেন। এখনো আনছেন। স্থানীয় জোগান কম থাকলেও অন্যান্য বছরের মতো এবারও এই বিভাগে গবাদিপশুর কোনো সংকট হবে না।

দুশ্চিন্তায় স্থানীয় খামারিরা

প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাবে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ২০ হাজার ৩৮৭ জন খামারি রয়েছেন। করোনাকালে আর্থিক সংকটের মধ্যেও তাঁরা ধারদেনা, ঋণ করে খামারে কোরবানির জন্য গরু লালন-পালন করেছেন। কিন্তু দেড় বছর ধরে করোনার কারণে অধিকাংশ মানুষের আর্থিক সামর্থ্য কমেছে। ফলে এবার গরুর চাহিদাও কমতে পারে। এবার কোরবানির বাজারে ন্যায্যমূল্য পাবেন কি না, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন খামারিরা।

বরিশাল নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণাফুলিয়া এলাকার আল বারকাহ অ্যাগ্রোর মালিক জামাল হোসেন বলেন, করোনাকালে সংকটের কারণে গত বছর তাঁরা কোরবানির গরু বিক্রি করেননি। এবার তাঁর খামারে শতাধিক গরু আছে। এবারও যে অবস্থা, তাতে ক্রেতাদের সাড়া কম।

সাড়া নেই অনলাইন হাটে

কমসংখ্যক মানুষ যাতে পশুরহাটে যান, সে জন্য ‘অনলাইন কোরবানির হাট’ কার্যক্রম শুরু করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। তবে এতে আশানুরূপ সাড়া নেই বলে খামারমালিকেরা জানান।

বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা গ্রামের জামাল হোসেন বলেন, তিনি কোরবানিযোগ্য ১৫টি গরু বিক্রি করবেন। ৮-১০ দিন আগে সব কটি গরু ‘অনলাইন কোরবানির হাট, বরিশাল’–এ গরুর ছবি দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনো ক্রেতার সাড়া পাননি।

বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্র জানা গেছে, বিভাগের ছয় জেলায় গতকাল পর্যন্ত ৪১ হাজার ৫৯৮টি ‘পশু অনলাইন পশুরহাট’–এ আপলোড হয়েছে। ১ হাজার ২০৪টি গরু বিক্রি হয়েছে, যার মোট মূল্য ৮ কোটি ৬২ লাখ ৬৪ হাজার ৪০০ টাকা।

বরিশাল নগরীতে তিনটি হাট

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরিশাল নগরে কমপক্ষে ১০টি স্থানে পশুর হাট বসানো হতো। এবার তা কমিয়ে তিনটি করার অনুমতি দিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘিয়ার স্থায়ী হাট ছাড়া রূপাতলী আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর ঢালে এবং কাউনিয়া টেক্সটাইল মাঠে দুটি অস্থায়ী হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন