বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের চিত্র ছিল এমন। চিকিৎসক ও নার্সরা জানিয়েছেন, ক্রমেই শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ কারণে ওই চিত্রের পরিবর্তন হচ্ছে না। ওই দিন ৪৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি ছিল প্রায় ১৫০ জন। প্রতিদিনই ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। চলতি মাসের শুরু থেকে রোগী বাড়ছে। অধিকাংশেরই ঠান্ডাজনিত সমস্যা। এত রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ওই ওয়ার্ডের চিকিৎসক ও নার্সদের।

ওই ওয়ার্ডের লিফটের সামনে ৩৬ দিন বয়সী বাচ্চা নিয়ে শয্যা করেছিলেন শামসুল ইসলাম। বাগেরহাট থেকে এসেছেন তাঁরা। বিছানায় শুয়ে বাচ্চাটি খেলা করছে, হাতে ক্যানুলা পরানো। পাশেই শুয়ে ছিলেন বাবা, আর মা বসে খুনসুটি করছিলেন বাচ্চার সঙ্গে।

শামসুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগে বাচ্চার সর্দি হয়। গায়ে হালকা জ্বরও ছিল। ওষুধ খাইয়েও সুস্থ হচ্ছিল না। পরে হাসপাতালে নিয়ে এসে পরীক্ষা করার পর বাচ্চার নিউমোনিয়া ধরা পড়েছে। দুই দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। কিন্তু কোনো শয্যা পাননি। অগত্যা বারান্দার মেঝেতে বিছানা করে থাকতে হচ্ছে।

দেখা যায়, কর্তব্যরত নার্সদের বসার স্থানে রাখা হয়েছে মাত্র একটি নেবুলাইজার যন্ত্র। অধিক সংখ্যক বাচ্চাকে সেবা দিতে পাঁচ মিনিট করে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। একটিমাত্র যন্ত্র থাকায় ভিড় জমে গেছে সেখানে।

সেখানে ৭ মাসের ছেলে বাচ্চাকে নেবুলাইজার দিচ্ছিলেন নূর আলী শেখ। পাইকগাছার রামনাথপুর গ্রাম থেকে গত মঙ্গলবার হাসপাতালে এসেছেন। নেবুলাইজার দেওয়ার সময় হাত-পা ছুড়ে বাচ্চাটি জোরে কান্নাকাটি করছিল। নূর আলী শেখ বলেন, বাচ্চা নেবুলাইজার নিতে চায় না। কিন্তু সুস্থ করতে চিকিৎসকেরা দিনে চারবার নেবুলাইজার দিতে বলেছেন।

খুলনা শিশু হাসপাতালে গিয়েও দেখা গেছে একই চিত্র। ওই হাসপাতালে থাকা ২৭৫টি শয্যার সব কটিই পরিপূর্ণ। বহির্বিভাগের চাপ এতটাই বেশি যে সকাল ৯টার দিকে সিরিয়াল দিয়েও দুপুর সাড়ে ১২টায় বাচ্চাকে দেখাতে পারেননি অভিভাবকেরা। বহির্বিভাগে যেখানে রোগী দেখা হচ্ছে, সেখানে চলাফেরার মতো কোনো অবস্থা নেই। মানুষের ভিড়। বেলা ১টার দিকে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেও বাচ্চাকে নিয়ে আসছেন অভিভাবকেরা।

বহির্বিভাগের দ্বিতীয় তলায় ১৮ মাসের বাচ্চাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে এসেছিলেন সোহেল রানা চৌধুরী। খুলনা নগরের দৌলতপুর থাকেন তাঁরা। সোহেল রানা বলেন, তিন দিন আগে বাচ্চার জ্বর হয়। স্থানীয় এক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে, কিন্তু জ্বর কমছে না। বাচ্চার অন্য কোনো সমস্যা হলো কি না, তা নিশ্চিত হতে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে এসেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৭ হাজার ৪৪৭ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। ওই হিসেবে গড়ে প্রতিদিন সেখানে সেবা নিয়েছে ৫৩২ জন। আর ভর্তি থেকে সেবা নিয়েছে ৫১১ জন।

খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক মো. কামরুজ্জামান বলেন, রোগীর চাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এমনটা হচ্ছে। এ সময় অভিভাবকদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে। বাচ্চাদের প্রচুর তরল ও ভিটামিন সি–জাতীয় খাবার দিতে হবে। বাচ্চা ঘেমে গেলে জামাকাপড় পরিবর্তন ও ঘাম মুছে দিতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন