default-image

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলা নন্দলালপুর এলাকায় ঢাকাগামী ট্রেনের ধাক্কায় একটি মাইক্রোবাস দুমড়েমুচড়ে গেছে। ট্রেনটি ক্রসিং থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে মাইক্রোবাসটি ঠেলে নিয়ে যায়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে পাগলা নন্দলালপুর এলাকায় রেললাইন পার হচ্ছিল সেনাবাহিনী পরিচালিত ডিএনডি প্রকল্পের একটি হাইব্রিড নোহা মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১৯-৯১১১)। এ সময় নারায়ণগঞ্জ–ঢাকা পথে চলাচলকারী একটি ট্রেন এসে মাইক্রোবাসটিকে ঠেলে প্রায় ৩০০ গজ দূরে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডাবল লাইনের কাজের জন্য রাখা রেললাইনে মাইক্রোবাসটি আটকে ট্রেনের সামনে থেকে সরে যায়। এরপর ট্রেনটি ঢাকায় চলে যায়। সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন গুরুতর অবস্থায় ওই চালককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চালক আবদুল জলিল (৩৬) ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে। মাইক্রোবাসটিতে আর কোনো আরোহী ছিল না বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনাস্থলে মেট্রোরেলের নির্মাণের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা প্রহরী আরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মাইক্রোবাসটি রেললাইনের ওপর আসার পরই গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। ট্রেন আসতে থাকায় তিনি অনেকবার বাঁশি বাজিয়ে চালককে সতর্ক করেন। কিন্তু চালক অনেক চেষ্টা করেও গাড়ির ইঞ্জিন চালু করতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যে ট্রেন এসে ধাক্কা দিয়ে গাড়িটিকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় একটি খাবার হোটেলের কর্মচারী মোহাম্মদ শাহীন বলেন, এখানে রেলপথে কোনো লেভেল ক্রসিং নেই। প্রতিদিন শত শত গাড়ি রেলপথ পার হয়। লেভেল ক্রসিং না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, নারায়ণগঞ্জ স্টেশন থেকে ট্রেনটি ২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে যায়। ট্রেনটি ২টা ৫০ মিনিটের দিকে পাগলা নন্দলালপুর এলাকায় এলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ওই গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে গেছে। এ ঘটনায় ঢাকা থেকে ওই ট্রেনটি ফিরে আসতে এক ঘণ্টা দেরি হয়েছে।

default-image

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএনডি প্রকল্পের একজন কর্মকর্তা বলেন, মাইক্রোবাসটি প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের জন্য ভাড়া করা ছিল। দুর্ঘটনায় ওই গাড়ির চালক মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে সেনাবাহিনীর কেউ হতাহত হয়নি।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সংঘর্ষে ওই গাড়ির চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন