বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজও আমাদের চারপাশে আছেন সেই গফুরেরা। এমনই একজন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কান্দ্রা গ্রামের আলিমুদ্দিন। তিনি বড় শখ করে পুষেছেন একটি ষাঁড়। নাম দিয়েছেন শান্ত বাবু। স্বভাবের কারণেই এই নাম। আলিমুদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি গরুকে বাজারের ‘ফিড’ খাওয়ান না। মসুর, খেসারি ও ছোলা কলে ভাঙিয়ে নিয়ে এসে খড়ের সঙ্গে মিশিয়ে নিজে খাবার তৈরি করেন। গত বছর প্রতিদিন শান্ত বাবুর পেটে যেত ১ হাজার ১০০ টাকা। এ বছর তা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা। গফুরকে মহেশের জন্য ভিটে ছাড়তে হয়েছিল। আলিমুদ্দিনকে হয়তো তা করতে হবে না। কিন্তু নিজের আবাদি জমি দুই লাখ টাকায় বন্ধক রাখতে হয়েছে। টাকা ফেরত না দিলে জমি ফেরত পাবেন না। তাই খেয়ে না খেয়ে আলিমুদ্দিন আরেকটি বছর পার করলেন। ঈদের আর বেশি দিন বাকি নেই। কিন্তু শান্ত বাবুর এবারও কোনো ক্রেতা নেই। বড় গরুর মালিক হিসেবে আলিমুদ্দিনের নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে, কিন্তু এই গরুর ক্রেতা মিলছে না।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা শহর থেকে আড়াই-তিন কিলোমিটার দূরে কান্দ্রা গ্রাম। গত শুক্রবার উপজেলা সদর থেকে কান্দ্রা গ্রামের যেতে যেতে মানুষের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছিল আলিমুদ্দিনের ষাঁড়ের কথা। গত বছরের মতো এবারও গিয়ে দেখা গেল, শান্ত বাবুর মাথার ওপরে ফ্যান ঘুরছে। তার ছোট ছেলে পাইপের পানি দিয়ে গা ধুয়ে দিচ্ছেন। শান্ত বাবু একেবারেই শান্ত। তবে কথাবার্তা বোঝে। পায়ের নিচে পানির পাইপ পড়ে গেলে পা তুলতে বললেই পা তুলছে। কোনো ফুঁসফাঁস নেই।

আলিমুদ্দিন বললেন, ষাঁড়টাকে খুবই ভালোবাসেন তিনি। এসব ষাঁড় মাংসের দামে বিক্রি হয় না। বড় বড় শিল্পপতি শখ করে কিনে নেন।

আলিমুদ্দিন বললেন, তাঁর এবার আর কোনো উপায় নেই। বন্ধক দেওয়া জমি ছাড়াতে হলে দুই লাখ টাকা লাগবে। তাঁর পক্ষে আর শান্ত বাবুকে ধরে রাখা সম্ভব নয়। তিনি জানান, তাঁর এই অবস্থা দেখে গ্রামের লোকজন চাঁদা তুলে অগত্যা ১০ লাখ টাকা জোগাড় করে দিতে চেয়েছেন। ক্রেতা না পেলে ১০ লাখ টাকাতেই তাঁর শখের গরুটা গ্রামবাসীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

কান্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদার এনামুল হক বলেন, গরুটি চাঁদা তুলে নিজেরা কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা। লোকটা শখ করে গরু পুষে বেকায়দায় পড়েছেন। এটা ভেবেই তিনি গ্রামের মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন। যদি এক হাজার টাকা কেজি পড়ে, তবু তাঁরা চাঁদা তুলে ভাগাভাগি করে গরুটি কিনে নেবেন। লোকটা বাঁচবেন। গ্রামের মানুষেরও ৩০ মণ ওজনের একটা গরুর মাংস খাওয়ার সুযোগ হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন