default-image

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার একটি ক্লিনিক থেকে নবজাতক চুরি হয়েছে। নবজাতকের জন্মের চার ঘণ্টার মধ্যে সোমবার সন্ধ্যায় ইফতারির সময় এ চুরির ঘটনা ঘটে। ওই নবজাতকের বাবার নাম মনিরুজ্জামান। তিনি উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

মনিরুজ্জামান বলেন, তাঁর স্ত্রী শাবানা খাতুনের প্রসব বেদনা শুরু হলে উপজেলা শহরের কোটচাঁদপুর এলাকায় সেবা ক্লিনিকে নিয়ে আসেন। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে চিকিৎসক প্রফুল্ল কুমার তাঁর স্ত্রীর অস্ত্রোপচার করেন। এতে তাঁর স্ত্রী কন্যাসন্তান প্রসব করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সবাই ইফতারি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় নবজাতক কন্যা তাঁর ১১ বছর বয়সী মেয়ে মরিয়ম খাতুনের কোলে ছিল। তাঁর স্ত্রী তখনো অচেতন ছিলেন। এই ফাঁকে বোরকা পরিহিত এক নারী এসে আদর করার কথা বলে মরিয়মের কাছ থেকে নবজাতককে কোলে নেন। আদরের ছলে ওই নারী নবজাতককে নিয়ে সবার চোখের আড়ালে চলে যান। ইফতারি আর নামাজ শেষে পরিবারের সদস্যরা এসে নবজাতককে আর খুঁজে পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে ক্লিনিকের মালিক আবদুর রশিদ বলেন, সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটিকে আরেকটি শিশুর কাছে রেখে সবাই চলে গেছেন। এ সুযোগে চোর ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
মনিরুজ্জামান বলছেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া ক্লিনিকে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা উচিত ছিল। পাশাপাশি নিরাপত্তা কর্মীও থাকা প্রয়োজন। এসব কিছু না থাকায় বাচ্চা চুরির ঘটনা ঘটেছে। তিনি এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার দাবি করছেন।

বিজ্ঞাপন

সিসিটিভি ও নিরাপত্তারক্ষী না থাকার বিষয়ে ক্লিনিক মালিক আবদুর রশিদ বলেন, এত দিন কোনো সমস্যা হয়নি। এ ছাড়া সার্বক্ষণিক নার্স কর্মরত থাকেন। তাঁরাই নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখে থাকেন। কিন্তু ইফতারি নিয়ে সবাই ব্যস্ত থাকায় এ দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহা. মাহফুজুর রহমান মিয়া বলেন, তাঁরা শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। আশা করছেন, উদ্ধার করতে পারবেন। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন