২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৫ জন শ্রমিক নিহত হন। আহত হন আরও প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। ৯ বছর আগের ওই ঘটনায় মাকে হারিয়েছেন ইয়ানুর আক্তার। নিজেও হেলপার হিসেবে কাজ করতেন ষষ্ঠ তলার ইথার টেক্স কারখানায়। ওই ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। মাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ইয়ানুর আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন ঠিকমতো চলতে পারি না। বাইরে বের হলে রিকশা নিতে হয়। টাকা না থাকলে কি রিকশাওয়ালারা আমাকে নিবে? নিবে না। আহত হওয়ায় কাজও করতে পারি না। সরকারের কাছে আমার চাওয়া আমি যাতে ভালোভাবে চলতে পারি, তার জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে দেয়।’

default-image

মেয়ে আলপনা দাশকে হারিয়েছেন সাভারের আড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাগরি মণি দাশ। ধসে পড়া ভবনের সামনে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন নাগরি মণি দাশ। তিনি বলেন, ‘কথা বলে কোনো লাভ হয় না। কেউ আমাগো সহযোগিতা করার জন্য আসে না। আমার মেয়ে সিনিয়র অপারেটর ছিল। এখন আমাগো খোঁজ কেউ নেয় না।’

রানা প্লাজা ধসে মা মর্জিনা আক্তারকে হারিয়েছে মো. আলিফ (১২)। প্রতিবছরই সে আসে মাকে স্মরণ করতে। আজও এসেছে সে। আলিফ বলে, ‘প্রতিবছর ২৩ এপ্রিল আসি মোমবাতি জ্বালাতে। ২৪ তারিখে আসি আমার মা আর যারা মারা গেছে তাদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে। সরকারের কাছে আমি বিচার চাই।’

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম খাত পোশাকশিল্প। এই শিল্পে কাজ করতে এসে শ্রমিকেরা নিহত ও আহত হওয়ার পর ক্ষতিপূরণ না পেলে তাঁরা এখানে কাজ করতে আসবে না। দুর্ঘটনার ৯ বছর পূর্ণ হলেও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হয়নি। রানা প্লাজা ধসের বিষয়টি দুর্ঘটনা বললে ভুল হবে, এটা একটি হত্যাকাণ্ড। দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন