বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নিজবলাইল এলাকায় যমুনা নদী থেকে বালু তুলছেন জানিয়ে তহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ করি। কী করে খাব? এ কারণে যমুনা থেকে বালু তুলছি। কিন্তু আওয়ামী লীগের একটি অংশ আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

এ বিষয়ে হাটশেরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষকতার উপার্জনে সংসার চালাই। বালু–বাণিজ্যের সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নে হাসনাপাড়া বাজারের কাছে যমুনা নদীর গতিপথ শাসন এবং ভাঙন রোধে ২০০২ সালে ১০ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫৫৮ মিটার স্পার (হাসনাপাড়া-২) নির্মিত হয়। কাছাকাছি সময়ে নিজবলাইল বাজারের কাছে একই ধরনের আরও একটি স্পার ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা স্পারের কাছে যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এসব বালু বহনের জন্য সিসি ব্লকগুলো উল্টিয়ে স্পার কেটে তাঁরা ট্রলি চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরি করে নিয়েছেন। গভীর রাত পর্যন্ত এসব ট্রলিতে করে বালু বিক্রির জন্য পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।

নিজবলাইল গ্রামের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘স্পারডা না থাকলে যমুনা হামাকেরে বসতভিটা ম্যালা আগেই গিলে ফেলত। সরকারি দলের লেতারা এই স্পারের ধারত লদিত থ্যাকে বালু তুলিচ্চে। লদীর পাড় ভাঙে যাচ্চে। ইংকা করে বালু তুললে এই বর্ষাত স্পার টিকবি লয়। স্পার না থাকলে হামরা কুনটি যামু?’

স্থানীয় আরেকজন বাসিন্দা বলেন, ‘লদীর চরত হামি ফসল চাষ করতাম। সেই চরের বালু লেতারা কাটে লিয়ে যাচ্চে। ফসলও পাচ্চি না, লষ্ট হয়া যাচ্চে। লেতাকেরে ভয়ে কিছুই কবার পারিচ্চি না।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্পার কেটে বালু বহনের রাস্তা তৈরি করায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্পার এলাকা দিয়ে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে। আগে প্রতিদিন স্পারে দর্শনার্থীরা ভিড় করতেন। স্পার কাটার পর থেকে আর দর্শনার্থীদের আনাগোনা নেই।

হাসনাপাড়া বাঁধে আশ্রয় নেওয়া একাধিক ব্যক্তি বলেন, বাঁধের ওপর দিয়ে সারা রাত বালুবাহী ট্রলি চলাচল করে। শব্দে রাতে ঘুম হয় না।

এ বিষয়ে কথা হয় হাটশেরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মেহেদী হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন না করার জন্য একাধিকবার নিষেধ করা হয়েছে। কেউ কর্ণপাত করছেন না।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, রাতের আঁধারে ওই স্থান থেকে বালু তোলা হয়। বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু উপজেলা সদর থেকে যেতে যেতে নিজেদের লোকের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাঁরা সটকে পড়েন। গিয়ে কাউকে পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে এখন থেকে আরও তৎপর হবে উপজেলা প্রশাসন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন