বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গ্রামের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন শশীলাল টুডু। কিন্তু স্ত্রী জোসনা মুরমু ও জীবন টুডুর সঙ্গে কোনো কথা হয় না। বাবার চেহারাটা কেমন, কণ্ঠটা কেমন তা–ও জানে না জীবন টুডু। বাবা বলে ডাকা হয়নি তার কোনো দিন।

সম্প্রতি একদিন গ্রামের বাইরে একটি কান্নাওয়ালা বাঁশ বাঁধা একটি উঁচু তালগাছে তরতর করে উঠতে ও পানির বোতলে রস নামিয়ে নিয়ে আসতে দেখে অবাক হতে হয়। সেখানে উপস্থিত গ্রামের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি সুরেন টুডু প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রামের আরও শিশু তালগাছে উঠতে পারে। কিন্তু জীবন টুডুর বয়সী এমন দক্ষ কেউ আর নেই। অভাব-অনটনের কারণে রস বেচা টাকায় চাল-ডাল কিনে বলে কেউ বাধা দেয় না। কী আর করবে? বাপ থেকেও নেই। গাঁয়ের মোড়ল একদিন অর মাকে বলেছে, যেন তালগাছে উঠতে না দেয় জীবনকে। কিন্তু মোড়লের সঙ্গে ঝগড়া হয়ে গেছে অর মায়ের। তারপর থাকি কেউ কিছু বলে না।’

এ নিয়ে জোসনা মুরমু প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বচ্ছর খুব অভাব গেল। হামিও অসুখ-বিসুখে ছিনু। ঠিকমতো কামে যাইতে পারিনি। বাড়িতে খাওয়া থাকে না। তাই বেটাকে মানা করতে পারিনি। পেটে ভুক থাকলে ভালোমন্দ কিছু মনে থাকে না। তবে আর তালগাছে উঠতে দিব না। একটাই ছেলা হামার। অকে হামি লিখাপড়া শিখাতে চাই। মানুষের মতন মানুষ করতে চাই। হামার বেটা পোরথম আলোর ইসকুলে (বাবুডাইং আদিবাসী আলোর পাঠশালা) কেলাস টুতে পড়ে। এখুন ইসকুল নাই তো। কখুন কখুন যে গাঁয়ের ছেলাপিলার সোথে তালাগাছে উঠা শিখল, বুঝতেই পারিনি।’

বরেন্দ্রভূমির গহিনে অবস্থিত রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাবুডাইং আদিবাসী আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক আলীউজ্জামান নূর বলেন, গ্রামের দুরন্ত শিশুদের মধ্যে জীবন টুডু অন্যতম। গ্রামের শিশুদের সঙ্গে দুরন্তপনায় মেতে থাকে। তবে লেখাপড়ায় ভালো। পড়া জিজ্ঞেসে না পারলে চোখ দিয়ে টপ টপ করে জল পড়ে। তখন খুব মায়া লাগে। শিক্ষকেরা ভালোবেসে কিছু বললে কথা শোনে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন