বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ওই বাঁধের অন্য একটি অংশ ভেঙে গিয়েছিল। প্রায় পাঁচ মাস পানিবন্দী থাকার পর গত অক্টোবরে ওই ভাঙা স্থানে বাঁধ দেওয়া হলে এলাকাটি সাগরের লোনাপানিমুক্ত হয়। বাঁধ দেওয়ার আগপর্যন্ত গাতিরঘেরি গ্রামের শতাধিক মানুষ সড়কের ওপর আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, ভাঙা বাঁধ সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে কাজ করেনি। এ কারণে আবার বাঁধ ভেঙে গেছে।

ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে ওই বাঁধ ভেঙেছে বলে অভিযোগ করেন গ্রামবাসী।

গাতিরঘেরি গ্রামের গণেশ গাইন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পর প্রায় পাঁচ মাস পানিবন্দী ছিলাম। মাসখানেক আগে বাঁধ হওয়ায় মনে করেছিলাম, বিধাতা হয়তো আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছেন। কিন্তু আবারও বাঁধ ভেঙে আমরা পানিবন্দী হয়ে পড়েছি। জানি না এই দশা থেকে আবার কবে মুক্ত হব।’

হরিহরপুর গ্রামের সিতা মণ্ডল বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ঘরবাড়ি ভেঙে গেয়েছিল। ছয় মাস ধরে খুপরিঘরে পরিবার নিয়ে বাস করেছি। বাঁধ হওয়ায় নতুন করে ঘর তৈরি করার স্বপ্ন দেখছিলাম। কিন্তু সেটা দুঃস্বপ্ন হয়ে গেল। এখন আবারও পানিবন্দী হয়ে পড়েছি।’

default-image

কয়রার ওই অঞ্চল পড়েছে সাতক্ষীরা পাউবো পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ-২-এর আওতায়। ওই বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশল মশিউল আবেদিন বলেন, ইয়াসের পর ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। গত নভেম্বরের শুরুর দিকে দরপত্র ছাড়াই জরুরি ভিত্তিতে মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বাঁধটি সংস্কারের জন্য দেওয়া হয়। জিও টিউব দিয়ে ওই বাঁধের কাজ করার কথা ছিল। ঠিকাদার সেটি করেছিলেন। কিন্তু উচ্চ জোয়ারে পানির তোড়ে ওই টিউব সরে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।

মশিউল আবেদিন বলেন, নিয়মানুযায়ী ৪৫ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু ওই সময় শেষ হওয়ার আগেই বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আর দোষারোপ করা যাচ্ছে না।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে গাতিরঘেরি ও হরিহরপুর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী মানুষের জন্য খাদ্যসহায়তা ও কম্বল দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন