বিজ্ঞাপন

খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পুলক কুমার মণ্ডল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হুমায়ুন কবীর, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এনামুল হক আজ দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ইউএনও পুলক কুমার মণ্ডল বলেন, আকস্মিক কয়েক সেকেন্ডের টর্নেডোর আঘাতে দুটি গ্রাম লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

আইন্দিপুর গ্রামে সরেজমিনে দেখা যায়, টর্নেডোর হানায় বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে বিলাপ করছেন অনেকেই। কেউ কেউ ভেঙে পড়া ঘরের ছিন্নভিন্ন টিন খুঁজে নিয়ে এসে বাড়ির উঠানে জড়ো করছেন। আবার কেউ ঘর মেরামতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গ্রামটিতে অন্তত ৩৬টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

৮০ বছর বয়সী আছিয়া বেগম বলেন, ‘আমি বাপু, ৩০-৩৫ বচর আগে অ্যাকবার ঝড় দেইকেলাম। তেবে, এবেড্ডা হটাশ (হঠাৎ) করে ঝড় আইল আর চলে গেল। তাকি দেকি ভিটেটুকু ছাড়া আর কিচুই নেই।’

ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দিতে গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন গৃহবধূ রুপালি বেগম (৩০)। তিনি বলেন, ‘ঝড়ে শুদো মাটিটুকুই রাইকে গিয়েচে। আমার আর ছেলেপিলেদের পরনের জামা ছাড়া কিচুই নেই। সব উড়ে গিয়েচে।’

গাংনী ইউনিয়নের নান্দবার গ্রামে ঢুকেই চোখে পড়ে ঝড়ের ধ্বংসলীলা। গ্রামের সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে একদল যুবক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের খাবারের জন্য খিচুড়ি রান্না করছেন। পুরো গ্রামঘুরে ঝড়ের তাণ্ডব চোখে পড়ে। পান চাষের ওপর নির্ভরশীল গ্রামটির হাসিবুর রহমান, রতন আলীসহ অসংখ্য কৃষকের পানের বরজ মাটিতে মিশে গেছে। মিনারা বেগম, ফারুক হোসেনসহ ১৬ জনের বাড়ি ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের ঘরের চাল অন্তত ৫০ ফুট ওপরে গাছের মগডালে আটকে থাকতে দেখা যায়। গ্রামের মোহাম্মদ আলী দাবি করেন, ৮৫ বছর বয়সে ঝড়ে এমন তাণ্ডব কখনো চোখে দেখেননি।

জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির পর তাঁদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন