খননের নামে ব্রহ্মপুত্রকে খালে পরিণত না করার দাবি

বিজ্ঞাপন
default-image

খননের নামে ব্রহ্মপুত্র নদকে ১০০ মিটার প্রস্থের খালে পরিণত করার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় নদটি রক্ষায় কয়েক দফা দাবিতে আজ রোববার ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলন নামের একটি সামাজিক সংগঠন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আবুল কালাম আল আজাদ। এতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য শাহ নুরুজ্জামান ও মাহমুদ বাবু। লিখিত বক্তব্যে আবুল কালাম আল আজাদ বলেন, ১০০ মিটার প্রস্থ নির্ধারণ করে ব্রহ্মপুত্র নদ খনন করার পর খননের মাটি আবার নদেই ফেলা হচ্ছে। সেই মাটি বর্ষায় আবারও ব্রহ্মপুত্রেই মিশেছে। খননকাজ শুরুর আগে এর দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নদের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি। পাশাপাশি খননের বালু ফেলা অংশকে কেন্দ্র করে নতুন করে দখল হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র। এ রকম দখল ও দূষণ বজায় রেখে ব্রহ্মপুত্রকে বাঁচানো সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে ব্রহ্মপুত্র নদকে রক্ষার জন্য আরও কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হচ্ছে খননের নামে ব্রহ্মপুত্রকে খালে পরিণত করা যাবে না, দখলমুক্ত করে ব্রহ্মপুত্রের গতিধারা ফিরিয়ে আনতে হবে ও ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে বিষাক্ত আবর্জনা ফেলা বন্ধ করা।

সংবাদ সম্মেলনে ব্রহ্মপুত্র নদকে রক্ষার জন্য আরও কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হচ্ছে খননের নামে ব্রহ্মপুত্রকে খালে পরিণত করা যাবে না, দখলমুক্ত করে ব্রহ্মপুত্রের গতিধারা ফিরিয়ে আনতে হবে, ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে বিষাক্ত আবর্জনা ফেলা বন্ধ করা, সব ক্ষেত্রে প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করা এবং সব নদী ও খালের পানির গতিরোধকারী বাঁধ অপসারণ করা।

লিখিত বক্তব্যের পর বলা হয়, ব্রহ্মপুত্রের খননকাজ শুরু হওয়ার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে খনন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সে অভিজ্ঞতা থেকে মনে হচ্ছে, খননের নামে ব্রহ্মপুত্রকে মূলত একটি খাল বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ব্রহ্মপুত্র খননের উদ্দেশ্যে হচ্ছে শুকনো মৌসুমেও যেন পানিপ্রবাহ থাকে। শুকনো মৌসুমে ১০০ মিটার অংশে পানিপ্রবাহই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে।
রাকিবুল ইসলাম, পরিচালক, ব্রহ্মপুত্র খনন প্রকল্প

ব্রহ্মপুত্র খনন প্রকল্পের পরিচালক রাকিবুল ইসলাম বলেন, ব্রহ্মপুত্র খননের উদ্দেশ্যে হচ্ছে শুকনো মৌসুমেও যেন পানিপ্রবাহ থাকে। শুকনো মৌসুমে ১০০ মিটার অংশে পানিপ্রবাহই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। দখলের বিষয়ে তিনি বলেন, নদে কোনো দখল নেই। তবে পাড়ে দখল থাকতে পারে। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন সেসব দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

ব্রহ্মপুত্র খনন প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় সূত্র জানায়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে উদ্যোগে ব্রহ্মপুত্র নদ খনন করছে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটি)। এ খননের আওতায় জামালপুর জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের উৎসমুখ থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার টোক পর্যন্ত মোট ২২৭ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। খনন প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ হাজার ৬৩ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন