বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, কাচারি ঘাট এলাকায় ছোট দুটি চর। আর একটি স্থানে চর না জাগলেও পানির নিচে ক্রমশ চর দৃশ্যমান হচ্ছে। জেগে ওঠা চর দুটির আয়তন আনুমানিক ৫০ শতক করে।

কাচারি ঘাটের খেয়া পারাপারে নিয়োজিত একজন মাঝি নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খননের পর তাঁরা আশা করেছিলেন নদীর গভীরতা বাড়বে। কিন্তু উল্টো এখন চরের কারণে নৌকা চালানো আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ওই মাঝি বলেন, তাঁর মতো আরও অনেক মাঝির ধারণা ব্রহ্মপুত্র নদের খননকাজের পরে উত্তোলিত মাটি রাখা হতো নদের পাড় ঘেঁষেই। যে কারণে বর্ষায় ওই সব মাটি বা বালু আবারও ব্রহ্মপুত্রে পড়েছে। ফলে চর জেগেছে।

তবে ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র খনন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারে আলম প্রথম আলোকে বলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিষ্ঠানের পরামর্শে তাঁরা ব্রহ্মপুত্রের খননকাজ করছেন। চর জাগার বিষয়টিও ওই প্রতিষ্ঠানকে জানিয়েছেন। তাঁরা ধারণা করছেন, প্রাকৃতিক কারণে পলি জমেই চর জাগছে। তবে বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। এ খননকাজ শেষ হবে ২০২৪ সালে। এর মধ্যে কোনো জায়গায় চর জাগলে, তা কেটে অপসারণ করা হবে।

ময়মনসিংহের নাগরিক সংগঠন ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলন গত শুক্রবার ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে ‘ব্রহ্মপুত্র প্রবাহের সংকট ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক একটি সেমিনার করছে। ওই সেমিনারেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে—প্রায় তিন শ কোটি টাকায় খননকাজের পরও কেন ব্রহ্মপুত্রে চার জাগছে।

ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আবুল কালাম আল আজাদ বলেন, খনন করা স্থানে কেন চর জাগতে শুরু করেছে, তা ময়মনসিংহের সচেতন মানুষের মনের প্রশ্ন। সরকারের ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ের খনন কাজের সুফল কেন পাওয়া যাচ্ছে না, সেটিও প্রশ্ন।

ব্রহ্মপুত্র খনন প্রকল্পের সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সাল থেকে শুরু হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদের খননকাজ। ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় খনন হবে এ নদের ময়মনসিংহ, জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার ২৭০ কিলোমিটার। খনন প্রকল্পের কাজ চলবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত।

খননের পর উত্তোলিত বালু প্রথমেই খনন এলাকার কাছাকাছি ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে ফেলা হয়। ওই ওই বালু নিলামে বিক্রি করা হয়। তবে ২০২০ সালের শুরু থেকে জুন মাস পর্যন্ত দেখা গেছে, নগরের কাচারি ঘাট, থানা ঘাট এলাকায় নদের দুই পারে বালুর স্তূপ। ওই সময় বৃষ্টির পানিতে স্তূপ করে রাখা বালু বৃষ্টিতে নদের পানিতে মিশে যেতে দেখা যায়।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারে আলম বলেন, শুরুতে খননের বালু কিছুদিন স্তূপ করে রাখা হলেও পরে তা নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। এ ছাড়া বালু যতটুকু দূরে ছিল, সেখান থেকে নদের পানিতে মিশে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তিনি আরও বলেন, ময়মনসিংহ নগরের কাচারি ঘাট এলাকায় জেগে ওঠা চরগুলো দ্রুত কেটে দিয়ে নাব্যতা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন