বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, খুলনা, সিলেটসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে পাইকাররা লিচু কিনতে আসেন বেড়গঙ্গারামপুরে। প্রতিদিন প্রায় ৪০ ট্রাক লিচু বিক্রি হয়।

গত সোমবার বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রি হওয়া বেশির ভাগ লিচু মোজাফফরপুরী জাতের। প্রতি এক হাজার লিচু ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্তত ১০ জন লিচুচাষি জানান, মৌসুমের শুরুতে অনাবৃষ্টির কারণে লিচুর গুটি নষ্ট হয়েছিল। তবে গাছে লিচুর ঘনত্ব কম থাকায় ফলের আকার বড় হয়েছে। সেই সঙ্গে ভালো দামে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছেন চাষিরা।

লিচুচাষি হাসান মোল্লা বলেন, তাঁর সাড়ে তিন একর জমিতে ১২০টি লিচুর গাছ রয়েছে। গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ৭০ হাজার টাকা বিক্রি করেছিলেন। এ বছর ফল কম থাকলেও ভালো দাম আছে। এ কারণে লিচু বিক্রি করেছেন সাড়ে ৩ লাখ টাকার।

এই আড়ত থেকে লিচু যায় বিভিন্ন জেলা শহরের ফলের দোকানগুলোতে। বেড়গঙ্গারামপুরে লিচু কিনতে এসেছিলেন সিলেটের ‘মা-বাবা ফল ভান্ডার’–এর প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, মোজাফফরপুরী জাতের আগাম লিচুর চাহিদা বেশি। এই জাতের লিচু বেড়গঙ্গারামপুরে পাওয়া যায়। এখানকার লিচুর আকার, রং ও স্বাদ ভালো।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনর রশিদ বলেন, উপজেলায় ৪১০ হেক্টর জমিতে মোজাফফরপুরী, বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে নাজিরপুর ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে আগাম জাতের মোজাফফরপুরী জাতের লিচুর চাষ হয়েছে। এই লিচুর বৈশিষ্ট্য হলো উৎপাদন বেশি হয়। পোকামাকড়ের আক্রমণও তুলনামূলক কম।

হারুনর রশিদ বলেন, উপজেলায় ৩ হাজার ৮২০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যার বাজারমূল্যে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা। বেচাকেনায় লাভ হলে এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতরাও উপকৃত হবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন