বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রকল্পের পরিপত্র অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিলে ঘর বরাদ্দের তালিকা প্রস্তুত করবেন। প্রাক্কলন অনুযায়ী, ১৯ ফুট ৬ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ২২ ফুট ৬ ইঞ্চি প্রস্থের ঘরের ভেতরে দুটি কক্ষ, রান্নাঘর ও শৌচাগার থাকবে। নকশা অনুযায়ী ঘর নির্মাণে ৬ হাজার ইট, ৫০ বস্তা সিমেন্ট, ২০০ ঘনফুট বালু এবং ভিটা নির্মাণে ৫০ ফুট বালু ব্যবহার করার কথা।

সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভোমরা ইউনিয়নের হাড়দ্দহের রাধানগর খালের দুই পাশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের জন্য ৯৪ শতক খাসজমি নির্বাচন করা হয়। এ জমিতে ৪৭টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয় হয়। মে মাসের মাঝামাঝি এসব ঘর নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ৪৭টি ঘরের মধ্যে ৩০টির দলিল নিবন্ধন হয়েছে। বাকি ১৭টি ঘরের জমির দলিল শিগগিরই নিবন্ধন হবে। মে মাসের শেষ সপ্তাহে উপকারভোগীদের কাছে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়।

হাড়দ্দহ রাধানগর খালসংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিনটি ঘরের দেয়ালে পলেস্তারা খসে পড়ে আছে। এসব ঘরের মেঝেরও পলেস্তারা উঠে গেছে। কিছু ঘরের মেঝে দেবে গেছে। উপজেলা প্রশাসন এসব ঘর সংস্কার করে দিয়েছে।

default-image

হাড়দ্দহ আশ্রয়ণ প্রকল্পে নতুন ঘর পেয়েছেন শ্রীরামপুর গ্রামের আম্বিয়া খাতুন। নতুন ঘরের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘর পেয়ে এক সপ্তাহ ধরে এখানে বাস করছেন। ঘরে ওঠার পরদিন থেকে দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। এ ছাড়া ঘরের মেঝের কয়েকটি স্থান থেকে পলেস্তারা উঠে গেছে। চার দিন আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়াল ও মেঝে মেরামত করে দেওয়া হয়েছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের আরেক বাসিন্দা বৈচানা গ্রামের সন্ধ্যা রানী দাস বলেন, কিছুদিন আগে নতুন ঘরে উঠেছেন। তিন দিন যেতে না যেতেই রান্নাঘরের মেঝে দেবে গেছে। পলেস্তারা খসে পড়ছে কিছুটা অংশজুড়ে। একই অবস্থা শোবার ঘরেও। অন্যদের মতো গত রোববার তাঁর বাড়িও সংস্কার করে  দেওয়া হয়েছে। সেপটিক ট্যাংক না থাকায় শৌচাগারের গ্যাস দুর্গন্ধ ছাড়াচ্ছে। টিউবওয়েলের ব্যবস্থা না থাকায় দূর থেকে জল আনার পাশাপাশি পাশের রাধানগর খালের পানিতে তাঁদের গোসল ও থালা–বাসন ধোয়ার কাজ করতে হচ্ছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মিন্টু মোল্লা বলেন, তাঁর ঘরের দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। ঘরের চালের টিন এত ছোট যে বৃষ্টির সঙ্গে সামান্য বাতাস হলেই ঘরের মেঝেতে পানি জমে। রান্না–খাওয়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একই কথা বলেন মারুফা খাতুনসহ আরও কয়েকজন উপকারভোগী।

স্থানীয় ভোমরা ইউপির চেয়ারম্যান গাজী ইসরাইল বলেন, ঘরে কিছু ত্রুটি–বিচ্যুতি দেখা দেওয়ায় তা মেরামত করা হচ্ছে। ওই প্রকল্পের তিনি একজন সদস্য হলেও তাঁর কোনো সই লাগে না। সবই করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। সবকিছু তিনি বলতে পারবেন।  

আশ্রয়ণ প্রকল্পের নতুন ঘরগুলোর এই দুরবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইয়ারুল ইসলাম বলেন,  কয়েক সপ্তাহ আগে উপকারভোগীরা ঘরে উঠেছেন। কয়েকটি ঘরে সামান্য ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাঠানোর পর তা আবার সংস্কার করা হয়েছে। উপকারভোগীরা কোনো সমস্যার কথা বললে তা ঠিক করে দেওয়া হবে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পে নলকূপ না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পিআইও বলেন, প্রকল্প এলাকায় প্রতি ১০টি পরিবারের জন্য একটি করে নলকূপ বরাদ্দ রয়েছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এসব নলকূপ নির্মাণ করে দেওয়ার কথা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, প্রকল্পে শৌচাগারে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের বিষয়টি রাখা হয়নি। হাড়দ্দহ আশ্রয়ণ প্রকল্পের শৌচাগার থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে তিনি শুনেছেন। তিনি দ্রুত এ সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।

default-image

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাতক্ষীরা কার্যালয়ের নিবাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে সদর উপজেলায় কাজ শুরু হয়েছে। ঈদের পর হাড়দ্দহ আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় কাজ শুরু করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন