default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতার ঘটনার এক মাস পূর্ণ হয়েছে। এক মাস পর পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে হঠাৎ বদলির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সর্বশেষ সরাইল বিশ্বরোড মোড়ের খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী শাখাওয়াত হোসেনকেও বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের এক আদেশে ওসি গাজী শাখাওয়াত হোসেনকে হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। এ নিয়ে গত দুই দিনের ব্যবধানে পুলিশের তিন কর্মকর্তার বদলি হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে হাইওয়ে থানার দায়িত্ব পালন করছেন উপপরিদশর্ক (এসআই) মোজাম্মেল হোসেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) আনিছুর রহমান প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘হাইওয়ে থানার ওসিকে ঠিক প্রত্যাহার নয়, বদলি করা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহিংসতার এক মাস পূর্ণ হওয়ার দিনে গত সোমবার সদর থানার ওসি মো. আবদুর রহিমকে রংপুর রেঞ্জে এবং মঙ্গলবার জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আলাউদ্দিন চৌধুরীকে সিলেট রেঞ্জের রিজার্ভ ফোর্সে সংযুক্ত করা হয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর, ঢাকার বায়তুল মোকাররম ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার ঘটনার প্রতিবাদে গত ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলাম হরতালের ডাক দেয়। ওই দিন হেফাজতের হরতালের সময় হেফাজতের নেতা, কর্মী-সমর্থক ও হরতাল সমর্থকেরা খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা চালান। হামলায় থানার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় আসবাব, কম্পিউটার, রেকার, সাঁজোয়া যান (এপিসি), দুটি পিকআপ ভ্যান, পাঁচটি অস্ত্র, গুলিসহ সব শেষ হয়ে যায়। মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি। হামলার সময় ১০-১২টি মোটরসাইকেল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
পুলিশ ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ হরতাল চলার সময় দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হরতাল সমর্থক কয়েক হাজার শিশু-কিশোর-তরুণ থানায় হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় হাইওয়ে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে সাড়ে চার শতাধিক গুলি ছোড়ে। এতে দুজন নিহত ও ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। হেফজতের সহিংসতার একপর্যায়ে সরাইল থানার পুলিশের সহায়তায় হাইওয়ে থানার ৩৪ জন সদস্য সাদাপোশাকে শুধু অস্ত্র নিয়ে আড়াই কিলোমিটার দূরে সরাইল থানায় আশ্রয় নেন।

২৮ মার্চের খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ঘটনায় ৩১ মার্চ দুটি মামলা হয়। খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে সরাইল থানায় একটি এবং একই থানার এসআই শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে একই দিন সদর মডেল থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। প্রতিটি মামলায় আটজন করে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় তিন থেকে চার হাজার জনকে অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে আসামি করা হয়।

সরাইল থানার মামলাটি তদন্ত করছেন সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন। সদর থানার মামলটি তদন্ত করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার ইসমাইল হোসেন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন