বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘চিঠিটি পাবার পর হাসব নাকি কাঁদব, বুঝে উঠতে পারছি না। এই যদি হয় মন্ত্রণালয়ের অবস্থা, তাহলে ভুক্তভোগীরা প্রতিকার পাবেন কী করে?’ তিনি বলেন, ‘অভিযোগ করেছি দুই বছর দুই মাস আগে। অভিযোগের অনেক বিষয় এরই মধ্যে ভুলে বসে আছি। নথিপত্র সংরক্ষণে আছে কি না, দেখতে হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আসাদুজ্জামান যুগান্তর পত্রিকার ভৈরব প্রতিনিধি। অভিযোগের সময় খোরশেদ আলম ভৈরব খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন। তখন খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে খাদ্যগুদামে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। আসাদুজ্জামান নানা অনিয়মের কথা তুলে ধরে যুগান্তর পত্রিকায় একাধিক সংবাদ পরিবেশন করেন। সংবাদ পরিবেশন নিয়ে খোরশেদের সঙ্গে আসাদুজ্জামানের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তখন বিষয়টি নিয়ে খোরশেদ আলম তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে লেখেন।

লেখায় উল্লেখ ছিল, আসাদুজ্জামান তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেন। পোস্টে আসাদুজ্জামানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে উপহাস করেন ওই খাদ্য কর্মকর্তা।

বিষয়টি ভৈরবের সর্বত্র মিশ্র আলোচনার জন্ম দেয়। পরে আসাদুজ্জামান এই ঘটনার প্রতিকার পেতে ভৈরব থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং খাদ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দেন।

সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে খাদ্য অধিদপ্তর অভিযোগটির তদন্ত করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই জন্য তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরীকে। তদন্ত করতে সুবীর নাথ ভৈরব আসবেন ৭ নভেম্বর। এই তথ্য জানিয়ে মূলত সুবীর নাথ চিঠি দেন আসাদুজ্জামান ফারুককে।

জানতে চাইলে সুবীর নাথ চৌধুরী বলেন, ‘তদন্ত করতে ভৈরব যাচ্ছি। প্রথমে অভিযোগকারীর সঙ্গে কথা বলব। পরে খাদ্যগুদামের নথিপত্র পরীক্ষা করব এবং সংশ্লিষ্ট লোকদের সঙ্গেও কথা হবে ওই দিন। পরে অভিযুক্ত খাদ্য কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলা হবে।’ বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিলম্বের কারণ আমার জানা নেই। আমি কেবল জানি আমাকে অভিযোগের তদন্ত করতে হবে।’

খোরশেদ আলম ঘটনার কয়েক মাস পর ভৈরব থেকে বদলি হয়ে যান। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন। ঘটনার পর তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে জানিয়েছিলেন, যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। মূলত স্বার্থগত কারণে আসাদুজ্জামান তাঁর বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন। ফেসবুকে তিনি ওই সত্যটি তুলে ধরে চেষ্টা করেছিলেন মাত্র।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন