মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামে ভাই-বোনের মৃত্যুর ঘটনায় বাড়িতে এলাকাবাসীর ভিড়।
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামে ভাই-বোনের মৃত্যুর ঘটনায় বাড়িতে এলাকাবাসীর ভিড়। ছবি: প্রথম আলো।

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় খাদ্যের বিষক্রিয়ায় দুই ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তিরা হলো উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের আরজু মোল্লার মেয়ে আফরিন সুলতানা (১৭) ও ছেলে শিমুল মোল্লা (১০)। মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার সকালে শিমুল মোল্লা এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে আফরিন সুলতানার মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

নিহত ব্যক্তিদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিমুল বিনোদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। আফরিন বিনোদপুর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। তারা দুজনই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে ভোররাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে সকালে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

নিহত আফরিন ও শিমুলের মা শ্যামলী খাতুন বলেন, শিমুল ও আফরিন দুজনই রাতে ডিম দিয়ে ভাত খেয়েছে। খাবার শেষে শিমুল একটি কোমল পানীয় পান করেছে। আফরিন সেটি পান করেনি। কিন্তু দুজনই ভোরে একই রকম অসুস্থ হয়েছে। কী থেকে কী ঘটল বুঝতে পারছেন না।

মাগুরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স আকলিমা খাতুন জানান, তাদের মেডিসিন ওয়ার্ডের নিবন্ধন বইতে শিমুল ও আফরিনের অসুস্থতার কারণ হিসেবে কোমল পানীয়ের বিষক্রিয়ার কথা উল্লেখ আছে। তবে আসলেই কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারক বিশ্বাস জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার রাতে শিশু শিমুল ও তার বড় বোন আফরিন রাতের খাবার শেষে স্থানীয় একটি দোকান থেকে কেনা কোমল পানীয় পান করে ঘুমিয়ে পড়ে। ভোররাতে তাদের পেটব্যথা শুরু হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাদের মাগুরা সদর হাসপাতালে আনা হলে আজ সকাল ছয়টার দিকে শিমুল মারা যায়। গুরুতর অসুস্থ তার বোন আফরিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ পাঠানো হলে বিকেল চারটার দিকে সে মারা যায়। নিহত ব্যক্তিদের ময়নাতদন্ত হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন