গত ৯ মার্চ চট্টগ্রামের আল্লামা শাহ সুফি অছিয়র রহমান (ক.) মাদ্রাসার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে মাশফির লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল। সে মাদ্রাসার কায়দা শাখার শিক্ষার্থী ছিল।

এ ঘটনায় মাশফির মামা মাসুদ খান বাদী হয়ে বোয়ালখালী থানায় সেদিন রাতেই মামলা করেন। ঘটনার পর পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে না পারায় এক মাস আগে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, হত্যাকাণ্ডটির কোনো ক্লু (সূত্র) ছিল না। মাদ্রাসার কেউ এ বিষয়ে মুখ খোলেনি। পরে পিবিআই কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে। মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।

অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীর জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআইয়ের এ কর্মকর্তা বলেন, নিহত মাশফি নিয়মিত তার বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসত। অভিযুক্ত দুজন প্রায়ই তার কাছ থেকে খাবার কেড়ে খেয়ে ফেলত। এ নিয়ে মাশফি তার মামা ও বড় ভাইয়ের কাছে নালিশ দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ওই দুই ছাত্র। পরে ঘটনার দিন রাতে মাশফিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে তারা। এতে বাধা দিলে মাদ্রাসায় থাকা দা ও ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে ফেলা হয়।

পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম জেলা পরিদর্শক মো. নেজাম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, আদালতে গ্রেপ্তার দুই শিক্ষার্থী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং মাদ্রাসার অপর দুই ছাত্র সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের জবানবন্দিতে পুরো ঘটনার চিত্র উঠে এসেছে।

এদিকে মামলার বাদী ও নিহত মাশফির মামা মাসুদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আর যেন কোনো ছাত্রকে এভাবে মাদ্রাসায় প্রাণ হারাতে না হয়। গ্রেপ্তার আসামিদের শাস্তি চাই।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন