কুষ্টিয়া বন্ধুসভার পাঠানো টাকা দেওয়ার পাশাপাশি সিলেট বন্ধুসভার পক্ষ থেকে রুনার জন্য খাবার ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য নানা ধরনের খাদ্যসামগ্রী উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। এ সময় আশ্রয়কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক আহমদ আলী ও আবদুল গাফফার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, সিলেট বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক অন্তর শ্যাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মিহরাব আহমেদ চৌধুরী, সদস্য মাজেদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম আলোর কুষ্টিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদী হাসান মুঠোফোনে বলেন, প্রথম আলো অনলাইনে সংবাদটি পড়ে তাৎক্ষণিকভাবে কুষ্টিয়া বন্ধুসভার সভাপতি তামিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এফ এম অর্ণবসহ অন্য সদস্যরা রুনার পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঁচ হাজার টাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।

default-image

এদিকে সিলেট বন্ধুসভার পক্ষ থেকে রুনার জন্য এক কার্টন বিস্কুট নিয়ে যাওয়া হয়। বিস্কুটের একটি প্যাকেট খুলে রুনার হাতে তুলে দেন বন্ধুসভার সদস্যরা। এ সময় রুনার পরিবারের সদস্যদের জন্য ৫ কেজি চাল, ২ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি পেঁয়াজ, ২৫০ গ্রাম মসুর ডাল, ১০০ গ্রাম হলুদ ও ১০০ গ্রাম মরিচ তুলে দেওয়া হয়।

রুনার জন্য টাকা ও নিজেদের জন্য খাবার পেয়ে উচ্ছ্বসিত রুনার বাবা মোজাম্মেল আহমেদ ও মা মাজেদা বেগম। বন্যার পানি বাড়তে বাড়তে কোমরপানি হলে গত বৃহস্পতিবার রাতে মোজাম্মেল-মাজেদা দম্পতি তাঁদের ১৩ বছরের ছেলে সজীব আহমেদ ও দেড় বছরের মেয়ে রুনাকে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসেন। বাড়িতে থাকার সময় মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি আটা ও ময়দা দিয়ে বানানো বিশেষ খাবার খেত রুনা। কিন্তু তিন দিন এর ব্যত্যয় ঘটেছে। কেবল বুকের দুধে পেট ভরছিল না তার, তাই ক্ষুধায় সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছিল রুনা। এ খবর প্রকাশিত হলে বন্ধুসভার সদস্যরা রুনার জন্য এগিয়ে আসে।

মাজেদা বেগম বলেন, রুনাকে আজ রোববার সকালে কিছুই খাওয়াতে পারেননি। আশ্রয়কেন্দ্রে দুপুরে খাবার পান। নিজে মা হিসেবে ঠিকমতো খেতে না পারায় দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তাই ঠিকমতো বুকের দুধও পাচ্ছিল না রুনা। বাড়িতে থাকার সময় রুনাকে দুধ, ফলের রস, জাউ, খিচুড়ি খাওয়াতেন। আশ্রয়কেন্দ্রে এটা বন্ধ হয়ে গেছে। এখানে মায়ের দুধই একমাত্র ভরসা। কুষ্টিয়া বন্ধুসভার টাকা থেকে তিনি মেয়ের জন্য গুঁড়া দুধ, ফল, সুজিসহ অন্যান্য উপকরণ কিনবেন বলে জানান।

রুনার বাবা মোজাম্মেল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি দিনমজুরের কাজ করেন। সদর উপজেলার নলকূট গ্রামে টিনশেডের দুই কক্ষের ঘরে তাঁদের বসবাস। বড় ছেলে সজীব অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। সে আবার প্রতিবন্ধী, কোমর কিছুটা বাঁকা। এমন ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি তাঁরা এই প্রথম হয়েছেন। বাড়িতে পানি ওঠায় আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন