default-image

গত বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরুর পর রান্না করা খাবার ফেলে পালিয়েছিলেন ফুটপাতের হোটেল মালিক বিষ্ণু। তবে বেশিক্ষণ তাঁকে পালিয়ে থাকতে হয়নি। কয়েক ঘণ্টা পরই ফিরে এসেছেন। রান্না-বান্না, ক্রেতা আপ্যায়ন, হাঁকডাকে আবার মুখর হয়ে উঠেছে তাঁর দোকান। তাঁর মতো আরেক হোটেল মালিক সোহেলের আফসোস তিনি ‘ধরা খাওয়ায়’ চার হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তিনিও ফিরে এসেছেন আগের জায়গায়।

বিজ্ঞাপন

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের ফুটপাত দখল করে ভালোই চলছে বিষ্ণু-সোহেলদের হোটেল-দোকান। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে গত বুধবার দুপুরে এ উচ্ছেদ অভিযান চালান। দোকানগুলো উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দখলদার দোকানিরা আবার ফিরে এসেছেন। এমনকি হাসপাতালে বহির্বিভাগের কাছে গণশৌচাগারের সামনের অংশে দোকান করায় যে দোকানিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল, দুই ঘণ্টার মধ্যে না উঠলে তাঁর ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তিনিও রয়ে গেছেন।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের সামনের ফুটপাত দিয়ে কখনোই পথচারীরা হাঁটার সুযোগ পান না। কিছুদিন পরপর ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করার জন্য অভিযান চালানো হয়। তবে পরের দিন থেকে আবার দখলদারেরা এসে ফুটপাতে দোকান খুলে বসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের খবর শুনে যে হোটেলমালিক রান্না করার খাবার ফেলে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি আবার ফিরে এসেছেন। আগের মতোই তাঁর দোকানে রান্নাবান্না চলছে। হোটেলের সামনে হেঁটে যাওয়া পথচারীদের উদ্দেশে হাঁকডাক ঠিক আগের মতোই শোনা যাচ্ছে। একটি হোটেলের মালিক সোহেলকে বুধবার ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। গতকাল তাঁর দোকানে ধুম বেচাকেনা চলেছে। হোটেলের সামনে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে একজন নারী কর্মচারী রুটি তৈরি করছেন। সোহেল কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটু পরে আসবেন। কখন থেকে তাঁরা দোকান চালু করেছেন প্রশ্নে তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যা থেকেই হোটেল চালু করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

দেখা গেল, আগের দিনে যাঁরা রাস্তার দক্ষিণ পাশের বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের প্রাচীরের ওপর দিয়ে মালামাল ফেলে দিয়েছিলেন, তাঁরাও আবার দোকান মেলে বসেছেন। আর যাঁরা মালামাল নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁরা গতকাল বিকেল থেকে দোকান খোলা শুরু করেছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে গণশৌচাগারের সামনে যে দোকান পরিচালনা করা হচ্ছিল, বুধবার বেলা সোয়া ২টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সে দোকানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। তখন দোকানের কর্মচারী মো. দুলাল আলী দুই ঘণ্টার মধ্যে দোকান সরিয়ে নেওয়ার কথা বলে মুচলেকা দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না সরালে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। গতকাল বিকেলে দেখা যায়, দোকানটি সেখানেই রয়ে গেছে। তবে দোকানের কর্মচারী বদল হয়ে গেছেন। দোকানে বসে ছিলেন কর্মচারী মোহাম্মদ আলী। দুই ঘণ্টার মধ্যে দোকান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি চুপ করে থাকেন। তবে গণশৌচাগারের ভেতর থেকে কোমল পানীয়ের বোতলগুলো সরানো হয়েছে। সেখানে শুধু প্যাকেটগুলো রাখা আছে।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ম্যাজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল বলেন, ‘অসুবিধা নেই। যতবার বসবে ততবার জরিমানা করা হবে।’

গত বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪১টি দোকানে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0