স্থানীয় বাসিন্দা ও পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান হেকিম ও রেজাউল কবিরের বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর এলাকার নন্দের পেটনা ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। লোকমান হেকিম ১ নম্বর মেন্দিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। রেজাউল কবির মেন্দিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, লোকমান হেকিম ও রেজাউল কবির দীর্ঘদিন ধরে একটি মৎস্য সমিতির নামে নন্দের পেটনা জলমহাল ইজারা নিয়ে মাছের চাষ করে আসছেন। গত সোমবার রাতে তাঁরা লোকজন নিয়ে জলমহালে পানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাশের ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে পাইপ বসান। কিন্তু বাঁধে পানির প্রচুর চাপ থাকায় সঙ্গে সঙ্গে তা ভেঙে নন্দের পেটনা হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করে। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ওই নেতাদের ধাওয়া করেন। এ সময় লোকমান তাঁর মোটরসাইকেল রেখে দৌড়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন মোটরসাইকেলটি পানিতে ফেলে দেন।

খবর পেয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল, খালিয়াজুরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম, মদনের ইউএনও বুলবুল আহমেদসহ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন। পরে তাঁদের তদারকিতে স্থানীয় কৃষকসহ শতাধিক শ্রমিক নিয়ে বাঁধ রক্ষার জন্য কাজ শুরু করা হয়। টানা ২৪ ঘণ্টায় চেষ্টা চালিয়ে বাঁশ, কাঠ, মাটি, বালু, জিওব্যাগ, চাটাই, খড় ফেলে বাঁধ রক্ষা করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর গতকাল দুপুরে জেলা পাউবোর পক্ষ থেকে থানায় মামলা হয়েছে। জানতে চাইলে খালিয়াজুরি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, বাঁধ কেটে দেওয়ার অভিযোগে পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী ওবায়দুল হক বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় লোকমান হেকিম ও রেজাউলের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।

খালিয়াজুরি কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বাঁধটি রক্ষার ফলে খালিয়াজুরি ও মদনের বিভিন্ন হাওরে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমির বোরো ধান রক্ষা পেয়েছে। খালিয়াজুরিতে প্রায় ৯৪ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত লোকমান হেকিম ও রেজাউল গা ঢাকা দিয়েছেন। তাঁদের দুজনের মুঠোফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে। তাই এ বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন