কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী

‘খালি দেখি যায়, কাইয়ো ভাঙন ঠেকায় না’

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের মেকলি গ্রাম ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদীর দিকে হতাশ চেয়ে আছেন আমির উদ্দীন। আজকের ছবি
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের মেকলি গ্রাম ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদীর দিকে হতাশ চেয়ে আছেন আমির উদ্দীন। আজকের ছবিপ্রথম আলো
বিজ্ঞাপন

‘হামার স্কুল, মসজিদ, বাড়িভিটা, ধানের জমি নদীত যাবার নাগছে। মাইনষের ভিটাত পড়ি আছি। খালি দেখি যায়, কাইয়ো ভাঙন ঠেকায় না।’

নদীর দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে কথাগুলো বললেন আমির উদ্দিন (৭৫)। তাঁর বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের মেকলি গ্রামে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মেকলি গ্রামটি ধরলা নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে এখানকার ৬৫টি পরিবার ভাঙনের শিকার হয়ে সড়কে ও বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে আরও অর্ধশত পরিবার। মেকলি খন্দকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও কয়েক শ একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হওয়ার পথে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

আজ বৃহস্পতিবার গ্রামটির মাটির সরু সড়ক ধরে এগোতেই চোখে পড়ে দুই পাশে ঘরের ভাঙা চাল রাখা।

জানতে চাইলে রহমত আলী বলেন, ‘দুই দিন আগে বসতভিটা নদীত গেছে। নিজের জাগা নাই। উপায় না পায়া সড়কোত থুছি। হামরা মাইনষের কানচাত থাকি।’

একই ধরনের কথা জানান নজরুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, ছামেদ আলী ও বাছেত আলী।

বাছেত বলেন, ‘মেকলির তিন কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন। মানুষের অবস্থা কাহিল। বন্যার ধকল কাটি উঠে মানুষ একটু মাথা সোজা করে দাঁড়াতে চাচ্ছিল। নদী তাক দেয় না। ভাঙন শুরু করছে।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, তীব্র স্রোত উত্তর দিক থেকে ধেয়ে এসে পূর্ব দিকে জেগে ওঠা চরে বাধা পেয়ে পশ্চিম দিকে মেকলি গ্রামে তাণ্ডব চালাচ্ছে। থেকে থেকে পাড় ভেঙে পানিতে পড়ে যাচ্ছে। এর বিকট শব্দ বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ দিকে মেকলি খন্দকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ। বিদ্যালয়ের খুঁটি পানিতে। মসজিদের গায়ে লেগেছে নদী। যেকোনো মুহূর্তে বিলীন হয়ে যাবে।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সবুর আলী বলেন, ‘আমি বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। পিলারসহ প্রায় অর্ধেক স্কুল পানিতে। নিলামে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পাইনি।’

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাশেদুল হক মণ্ডল বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

নদীর পাড়ে পড়ে থাকা ভিটে থেকে টুকটাক জিনিস সরাচ্ছিলেন হালিমা বেগম। তিনি বলেন, ‘হামার সউগ শ্যাষ হয়া গেইছে। এবার নিয়া চারবার ভিটা নদীত ভাঙ্গিল। কী হবে, কোটে যাম আল্লায় জানে।’

এখানেই দেখা হলে বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাড়িতে নদী এসে লেগেছে। যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে যাবে। তবু বাড়িতে অসহায় মানুষদের আশ্রয় দিয়েছি। শুধু আমি নই, অনেকের বাড়িতেই মানুষ ঠাঁই নিয়ে আছে।’

রফিকুল আরও বলেন, গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী ঘুরে গেছেন। তাঁরা ভাঙন রোধের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নেননি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে ইউএনও তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘আমি পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিয়ে দেখে গেছি। পাউবো ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।’

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে ভাঙন রোধে জরুরি তহবিল নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। বরাদ্দ এলে কাজ করতে পারব।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন