অধিক মজুমদারের ভাষ্য, ৭ মে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে অধিক মজুমদারের মুঠোফোনে তিনবার কল আসে। পরে অধিক মজুমদার ওই নম্বরে কল করলে এসআই মাহবুবুর রহমান তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে থানায় যেতে বলেন। থানায় না গেলে মাহবুবুর রহমান তাঁকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। পরদিন ৮ মে সন্ধ্যায় তিনি থানায় যান।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, থানায় যাওয়ার পরই এসআই মাহবুবুর রহমান অধিক মজুমদারের মুঠোফোন নিয়ে সাজ্জাদের পাওনা চার লাখ টাকা পরিশোধ করতে বলেন। তবে তাঁর কাছে সাজ্জাদের কোনো টাকা পাওনা নেই দাবি করলে মাহবুবুর রহমান তাঁকে টাকার অঙ্ক বসানো অনেকগুলো খাতা ও রসিদ দেখান। টাকা পরিশোধ না করলে অধিক মজুমদারের নামে মামলা দিয়ে হাজতে রেখে আদালতে চালান করে দেওয়ার হুমকি দেন মাহবুবুর রহমান। এ সময় অধিক মজুমদার অনুরোধ করেও কোনো লাভ হয়নি। একপর্যায়ে ৩০০ টাকার নন–জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক অধিক মজুমদারের স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়। ঘটনার সময় সাজ্জাদুর রহমানও থানায় উপস্থিত ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অধিক মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাজ্জাদ আমার কাছে কোনো টাকা পাবেন না। তাঁর কাছ থেকে কাঠ বাকি নিলে অতিরিক্ত দাম আদায় করেন। তাই আমি আর সাজ্জাদের কাছ থেকে কাঠ কিনি না। কাঠ না কেনায় বিভিন্ন সময় সাজ্জাদ আমাকে হুমকি দিতেন। আমি দরিদ্র কাঠমিস্ত্রি। নগদে কাঠ কেনায় লাভ পাই। আমার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র।’

কাঠমিস্ত্রি অধিক মজুমদারের অভিযোগ প্রসঙ্গে সাজ্জাদুর রহমান বলেন, অধিক মজুমদারের কাছে তিনি সাড়ে তিন লাখ টাকা পাবেন। টাকা না পেয়ে তিনি পুলিশের কাছে গিয়েছেন। পরে পুলিশ বিষয়টি দুই লাখ টাকায় আপস করে দিয়েছে।

স্ট্যাম্পের স্বাক্ষর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্ট্যাম্প এসআইয়ের কাছে আছে।

জানতে চাইলে এসআই মাহবুবুর রহমান বলেন, থানায় দুজনের মধ্যে সমঝোতা করে স্ট্যাম্পে দুজনের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। স্ট্যাম্পটি তাঁর কাছে আছে বলে জানান তিনি।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন