বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত সোমবার সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, কালীবাড়ি খালে বিভিন্ন এলাকা ৪০ থেকে ৫০টি ট্রলার বোঝাই করে হাটে তরমুজ নিয়ে এসেছে ব্যবসায়ীরা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা ট্রলারে উঠে দরদাম করছেন। ক্রেতা–বিক্রেতার হাকডাকে সরব তরমুজের হাটা। দামে বনিবনা হলে ট্রলার থেকে তরমুজ কিনে আরেক ট্রলারে তোলা হচ্ছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ট্রলার থেকে তরমুজ কিনে ছোট নৌকায় তুলছেন। অনেক ব্যবসায়ী ট্রলার থেকে তরমুজ কিনে পাশের মিয়ারহাটে রাখা ট্রাকে বোঝাই করছেন।

মিয়ারহাট বাজারের তরমুজ ব্যবসায়ী মো. বাবুল মিয়া বলেন, পটুয়াখালী, ভোলা ও বরগুনার বিভিন্ন চরে আবাদ করা তরমুজের খেত কেনেন ব্যবসায়ীরা। এরপর খেত থেকে পাকা তরমুজ ট্রলারে করে মিয়ারহাটসহ বিভিন্ন বাজারে নিয়ে বিক্রি করা হয়। বড় আকারের ১০০টি তরমুজের পাইকারি মূল্য ৩০ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা। মাঝারি তরমুজ ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। ছোট তরমুজ কয়েকটি আকারভেদে ৭ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। হাট থেকে তরমুজ স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বড় ব্যবসায়ীরা কিনে নেন।

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার কালীবাড়ি খালে এই ভাসমান তরমুজের হাট। সপ্তাহে দুই দিন এ হাট বসে। প্রতি হাটে কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়।

তরমুজ ব্যবসায়ী নাসির হোসেন বলেন, ‘উপকূলীয় জেলাগুলোর চরাঞ্চলে প্রচুর তরমুজের আবাদ হচ্ছে। আমরা খেত হিসেবে তরমুজ কিনি। প্রতি কানি খেতের দাম পড়ে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা। এরপর খেত থেকে তরমুজ কেটে আকারভেদে পাইকারি বাজারে বিক্রি করি। পাইকারি বাজারে শত (১০০টি) হিসেবে তরমুজ বিক্রি হয়।

এই হাট থেকে নিয়মিত তরমুজ কিনে নিয়ে যান মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ব্যবসায়ী আবদুল হালিম ফরাজী। তিনি বলেন, প্রতি হাটে ৮০ লাখ থেকে ১ কেটি টাকার তরমুজ কেনাবেচা হয়।

নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হক বলেন, ‘নেছারাবাদ উপজেলার হাটবাজারগুলো নদী ও খালকেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে। নৌপথে পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ায় আমাদের উপজেলায় বেশ কয়েকটি বৃহত্তর ভাসমান বাজার রয়েছে। এর মধ্যে আটঘর কুড়িয়ানার পেয়ারা বাজার ও মিয়ারহাটের কালীবাড়ি খালের ভাসমান তরমুজের বাজার প্রসিদ্ধ।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন