উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে খালটি ‘ডাঙ্গার খাল’ নামে পরিচিত। ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে খালটির পশ্চিমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধ ও পূর্ব দিকে মোল্লা বাজারে গিয়ে শেষ হয়েছে। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ খালটির মোল্লা বাজার অংশে জলকপাট আছে এবং সেখান থেকেই পানি ওঠানামা করে। কিন্তু খালের বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ দেওয়ায় এখন খালটি মৃতপ্রায়।

বিষয়টি শুনেছি। খালের বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে। পুরোনো যেসব বাঁধ আছে, সেগুলোও কেটে দেওয়ার কথা শুনেছি।
এ বি এম আবদুল মন্নান হাওলাদার, ছোটবাইশদিয়া ইউপির চেয়ারম্যান

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মুজিবুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রিনা বেগমসহ এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি খালটিতে বাঁধ দিয়ে পুকুর বানাচ্ছেন।

গত বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের পশ্চিমে পাউবোর বাঁধের পর থেকেই এক্সকাভেটর দিয়ে খালে বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরি করার কাজ চলছে। পাশে আরেকটি এক্সকাভেটর মেশিন মাটি কেটে তুলছে। পরের দিন বৃহস্পতিবার আবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, খালের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ছয়টি বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরি করে অনেকে মাছ চাষ করছেন। আবার কেউ কেউ খাল ভরাট করে চলাচলের পথ তৈরি করেছেন।

কোড়ালিয়া গ্রামের ইউনুচ শরীফ খালে পাউবোর বাঁধের পর থেকে বালু দিয়ে খাল ভরাট করে চলাচলের রাস্তা বানিয়েছেন। এ ছাড়া খালের একটি অংশে তিনি পুকুর তৈরি করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছয় মাস আগেও সেখানে খাল ছিল। সরকারি খাল ভরাট করার কারণ জানতে চাইলে ইউনুচ শরীফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা সরকারি খাল নয়। আমার রেকর্ড করা সম্পত্তি। আমার জায়গা আমি ভরাট করেছি।’

বশিল ফরাজী নামের এক বাসিন্দা তাঁর বাড়ির সামনের খালে বাঁধ দিয়ে পুকুর বানিয়েছেন। বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর স্ত্রী রেবা ফরাজী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাড়িতে যাতায়াতের পথ ছিল না। তাই বাঁধ দিয়ে চলাচলের পথ করেছি। সরকার মানা করলে বাঁধ কেটে দেব।’

ইউপি সদস্য রিনা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, খালটি এমনিতেই পুকুর হয়ে গেছে। পানি ধরে রাখতে খালটি খনন করে গভীর করা হচ্ছে। তিনি বাঁধ কেটে দিয়েছেন। তবে এখনো পাঁচ-ছয়টি বাঁধ আছে বলে জানান তিনি।

ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি খালে বাঁধ দেওয়ার বিরোধিতা করেছি। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের উচিত, পুরো খালের বাঁধ কেটে দিয়ে খালটি খনন করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা। পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হলে কৃষকেরা উপকৃত হবেন।’

জানতে চাইলে ছোটবাইশদিয়া ইউপির চেয়ারম্যান এ বি এম আবদুল মন্নান হাওলাদার বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। খালের বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে। পুরোনো যেসব বাঁধ আছে, সেগুলোও কেটে দেওয়ার কথা শুনেছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরি করার কোনো সুযোগ নেই। এ কাজে ইউপি সদস্যরা কখনো জড়িত হতে পারেন না। তিনি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন