default-image

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের জন্য মুঠোফোনে খুদে বার্তা পেয়েছেন ১ হাজার ৬৮ জন। এর মধ্যে প্রথম দিনে টিকা নিয়েছেন ৬০৫ জন। গ্রহণের হার ৫৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এই হারকে মোটামুটি হিসেবে দেখছেন স্বাস্থ্য বিভাগ।

টিকার দ্বিতীয় ডোজের প্রথম দিনের পরিসংখ্যান নিয়ে খুব বেশি খুশি হতে না পারলেও এখন পর্যন্ত কারও কাছ থেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর না আসায় বেশি তৃপ্ত স্বাস্থ্য বিভাগ।

মো. খোরশেদ আলম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। তিনি করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিব। সার্বিক মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথম ডোজ শুরু হয়েছিল ৭ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ৫৬ দিন হয়েছে, এমন ব্যক্তির একাংশের কাছে খুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে। আমার ধারণা, অনেকে ব্যস্ততার জন্য আসতে পারেনি। আবার লকডাউন চলছে। সেটিও কারণ হতে পারে। তবে আশা করছি, দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যাটি বাড়বে।’

মো. খোরশেদ আলম বলেন, তৃপ্তির বিষয় হলো এরই মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের এক দিন পেরিয়ে গেছে। কারও কাছ থেকে বিশেষ প্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি। জ্বর বা শরীরব্যথা হচ্ছে, এমন তথ্যও আসেনি।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, করোনার জন্য কিশোরগঞ্জ শুরু থেকেই হটস্পষ্ট জেলা। আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক দিয়ে জেলার শীর্ষে ভৈরব। গেল বছরের ১৭ মার্চ থেকে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল পর্যন্ত ভৈরব থেকে নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৫ হাজার ৮২০ জনের। এর মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৯৮৮ জনের। গেল বছরের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যেতে শুরু করে। আগস্টে এসে পরিস্থিতি প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তবে নতুন বছরের প্রথম মাস থেকে আবার সংক্রমের হার ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

হিসাব করে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নমুনা গেছে ২৮২ জনের। এ সংখ্যা থেকে শনাক্ত হয়েছে ৩৭ জনের। শনাক্তের হার ১৩ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪২ জনের নমুনা থেকে শনাক্ত ছিল ২৯ জন। হার ২০ শতাংশ। মার্চে এসে নমুনা দেওয়ার হার বেড়ে যায়। ওই মাসে নমুনা যায় ৬৪০ জনের। শনাক্ত হয় ১১৭ জন। শনাক্তের হার ১৮ শতাংশ। এপ্রিলের এসে নমুনা সংগ্রহ ও শনাক্ত দুই-ই দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে। এ মাসের ৮ তারিখ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৫৭ জনের। এ থেকে শনাক্ত হয়েছে ৪৪ জন। আক্রান্তের হার ২৮ শতাংশ।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জনের নমুনা থেকে পজিটিভ পাওয়া গেছে ৩ জনের। বর্তমানে কিশোরগঞ্জের করোনা রোগী রয়েছেন ৩৪১ জন। এর মধ্যে ভৈরবের ৭৮ জন। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ভৈরবে মারা গেছেন ১৬ জন। প্রথম ডোজ নেওয়ার পর করোনা শনাক্ত হয়েছে ২০ জন। ভৈরবে টিকা গ্রহণ নিয়ে শুরু থেকে স্থানীয় লোকজনের আগ্রহ ছিল। প্রথম ডোজ দেওয়ার জন্য ভৈরবে বরাদ্দ ছিল ৯ হাজার ৫০০ জনের। বিপরীতে এখন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ১১ হাজার ৮৪৭ জন। এই থেকে টিকা নিয়েছেন ৭ হাজার ৬৫১ জন। ফলে এখনো প্রথম ডোজ নেওয়া সুযোগ রয়েছে ১ হাজার ৮৪৯ জনের।

গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ডোজ শুরুর প্রথম দিন টিকাদানকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, শুরু থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রে বেশ ভিড়। ভৈরবে টিকা দেওয়ার জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক লাগোয়া ভৈরব ট্রমা সেন্টারে। প্রথম ডোজের শুরুর ব্যবস্থাপনার চেয়ে দ্বিতীয় ডোজের ব্যবস্থাপনা কিছুটা দুর্বল ছিল।
আসাদুজ্জামান ফারুক একজন গণমাধ্যমকর্মী। বেলা ১১টায় তিনিসহ আটজন একসঙ্গে যান দ্বিতীয় ডোজ নিতে। আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রথম ডোজ নেওয়ার পর শরীরে হালকা ব্যথা ও জ্বর অনুভব করেছিলাম। ভেবেছিলাম, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরও হয়তো একই সমস্যায় পড়তে হবে, কিন্তু না। এখন আমাদের কারও কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

তবে কয়েকজন জানান, জ্বর বা সারা শরীরে ব্যথা না থাকলেও যে হাতে টিকা দেওয়া হয়েছে, ওই স্থানে ব্যথা রয়েছে। হাত দিয়ে স্পর্শ করলে ব্যথা বাড়ে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন